
‘যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনগুলো নীতিগতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল’
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনগুলো নীতিগতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল । তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের বন্ধু আমেরিকার নিক্সন ও কিসিঞ্জার প্রশাসনের পলিসির সাথে তাল মিলিয়ে মার্কিনী টেলিভিশনগুলোও একই ভূমিকা নিয়েছিল।
নিউ ইয়র্কে প্রগ্রেসিভ ফোরাম আয়োজিত ‘মার্কিন টেলিভিশন সংবাদে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন এ কথা বলেন।
২৯ জুলাই বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি হাফিজুল হক। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি শামসাদ হুসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা।
কাবেরী গায়েন বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র টেলিভিশনগুলো ঢালাও ভাবে পশ্চিম পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। টেলিভিশনগুলোও আমেরিকার প্রশাসনের সাথে সংগতি রেখে আদর্শিক ভাবেই একই ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চের কালো রাত থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিডিয়াগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ‘গৃহযুদ্ধ’ বলার চেষ্টা করেছিল। তারপর বলেছিল গেরিলা যুদ্ধ। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত টেলিভিশনগুলোতে ভারত, পাকিস্তান, চীন ও আমেরিকার নাম শোনা গেলেও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয় নাই।
তিনি আরও বলেন,তারা ভারতের শরণার্থী, ডায়েরিয়ার কথা বলেছে , বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে যখন লাখ লাখ মানুষকে পাকিস্তানি বাহিনী হত্যা করেছে, তখন আমেরিকার মিডিয়া সেটিকে গৃহযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আলোচনার পরে ছিল প্রশ্নত্তোর পর্ব। এতে উপস্থিত অনেকের প্রশ্নের উত্তর দেন কাবেরী গায়েন । বক্তব্য রাখেন শামসাদ হুসোইন, খোরশেদুল ইসলাম, মুহম্মদ ফজলুর রহমান, ওবায়দুল্লাহ মামুন,হুসনে আরা বেগম, জাকির হোসেন বাচ্চু, হিরো চৌধুরী, নতুন প্রজন্মের রানিয়া প্রমুখ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন রেজা রহমান,মুক্তি সরকার ও দীলিপ মোদক।
নির্ধারিত আলোচনার আগে সংগঠনটির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রগ্রেসিভ ফোরামের গঠনতন্ত্র বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও উপদেষ্টা পরিষদের নাম ঘোষণা করেন সিনিয়র সহ সভাপতি জাকির হোসেন বাচ্চু।
ছবি











