ল্যান্ডারের ভোটাররা বিভক্ত: মমদানি নাকি কুয়োমো?
ইসরায়েল ইস্যুতে প্রগ্রেসিভ ভোটারদের ভেতরে টানাপোড়েন
নিউইয়র্ক | শাহ্ জে. চৌধুরী
নিউইয়র্ক সিটি মেয়রাল রেসে নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতা ব্র্যাড ল্যান্ডারের সমর্থক প্রগ্রেসিভ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর বিভক্তি—তাঁদের বড় অংশ কি ল্যান্ডারের অনুসরণে জোহরান মমদানিকে সমর্থন দেবেন, নাকি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোর দিকে ঝুঁকবেন—এই প্রশ্নে এখন তোলপাড় শহরের রাজনীতি।
ল্যান্ডার প্রাইমারিতে জ্যুইশ প্রগ্রেসিভ ভোটারদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছিলেন। পরে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, তিনি মমদানির পক্ষেই আছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই ভোটারদের বড় অংশই দ্বিধায়—বিশেষ করে মমদানির ইসরায়েল–প্যালেস্টাইন বিষয়ে কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে।
প্রাইমারি পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ল্যান্ডারের ভোটারদের মাত্র ৫৬ শতাংশ দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে মমদানিকে রেখেছেন। বাকিরা ভোট দেননি বা কুয়োমোর নাম দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট, ল্যান্ডারের প্রগ্রেসিভ ভোটব্যাংকের ভেতরেই এখন ফাটল ধরেছে।
একজন জ্যুইশ ভোটার বলেন,
“আমি মমদানির নীতি ও সততা পছন্দ করি, কিন্তু ইসরায়েল বিষয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে আমি অস্বস্তিতে আছি।”
আরেকজন মন্তব্য করেন,
“আমরা ল্যান্ডারকে বিশ্বাস করি, কিন্তু মমদানিকে নিয়ে নিশ্চিত নই।”
ল্যান্ডার নিজেও স্বীকার করেছেন তাঁর ভোটারদের দ্বিধার কথা। তিনি বলেন,
“আমি তাঁদের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছি—কেন আমি মমদানিকে সমর্থন করছি, সেটা ব্যাখ্যা করাই এখন জরুরি।”
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিভক্তি শুধু নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, প্রগ্রেসিভ আন্দোলনের দিকনির্দেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইসরায়েল–প্যালেস্টাইন ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্রের শহরভিত্তিক নির্বাচনে নতুন সামাজিক ও নৈতিক বিভাজনের প্রতীক হয়ে উঠছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল



