
‘অখণ্ড ভারতে’র পাল্টায় ‘অখণ্ড নেপালে’র মানচিত্র টানালেন কাঠমান্ডুর মেয়র
বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্রের। এবার এই বিতর্কে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। বৃহস্পতিবার (৮জুন) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর শহরের মেয়র বলেন্দ্র শাহ তার দফতরে ‘অখণ্ড নেপালের’ একটি মানচিত্র রেখেছেন।
নেপালের এই প্রাচীন মানচিত্রে দেখা গিয়েছে, ভারতের সামান্য কিছু অংশ আসলে নেপালের মধ্যে পড়ে।
এ বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল প্রচন্ড বুধবার নেপালের সংসদে এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে তার আগেই কথা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি সাংস্কৃতিক মানচিত্র, রাজনৈতিক নয়।
এই বিতর্কে গতকাল নতুন মাত্রা যোগ করেন কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ। তিনি বর্তমানে দক্ষিণ ভারত সফররত থাকলেও দফতরের কর্মীদের ফোন করে ‘অখণ্ড নেপালের’ একটি মানচিত্র তার অফিসে রাখার নির্দেশ দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন্দ্র শাহর দফতরের এক কর্মী বলেন, নেপালের বিরোধী দলের নেতারা ভারতের সংসদে রাখা মানচিত্রের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে কারণ প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে বলেছেন যে তিনি বিষয়টি আগেই জানতেন। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীদলীয়রা। তাদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আগে থেকে জানার পরও কেন তিনি আগে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি বা বিরোধিতা করেননি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এটি আরও জোরালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৮ মে নয়াদিল্লিতে ভারতের নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন করা হয়। সেখানে ম্যুরালের মাধ্যমে অখণ্ড ভারতের যে মানচিত্র আঁকা হয়েছে, তাতে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার। ভারতের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি ম্যুরালটিকে ‘অখণ্ড ভারত’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।



