
৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬। দেশটির পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রের নিচে মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই এবং এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, ইন্দোনেশিয়ার তিমোর দ্বীপের কাছে সমুদ্রে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা। সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
কম্পনটি পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়, যার মধ্যে তিমোর দ্বীপও রয়েছে। তবে ভূমিকম্পটির কেন্দ্র সমুদ্রে এবং তুলনামূলক গভীরে হওয়ায় সুনামির ঝুঁকি কম। এছাড়া রয়টার্স ও এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ সুনামির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করে।
ভূমিকম্পে কাঁপছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র, ৪ ঘণ্টায় ২৮ বার
উল্লেখ্য, এশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপদেশ ইন্দোনেশিয়ার জন্যসংখ্যা সাড়ে ২৭ কোটির বেশি। ভূতাত্ত্বিক অবস্থার কারণে নিয়মিতই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে থাকে।
২০০৯ সালে দেশটির পাদাংয়ে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এক ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেই সময় প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হন আরও অনেকে। এছাড়া ভূমিকম্পে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনাও ধ্বংস হয়ে যায়।
তারও আগে ২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলে ৯ দশমিক ১ মাত্রার মাত্রার ভয়াবহ একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের পরপর আঘাত হানে সুনামি। তখন ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
ভূমিকম্পের ৯০ সেকেন্ড আগে সতর্ক করবে ইব্রাহিম মোল্লার তৈরি ‘ভুবন’
মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের তথাকথিত ‘রিং অব ফায়ারে’ ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা দেখা যায়। এখানে টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ঘটে।
অবশ্য শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, জাপানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব দেশই এ কারণে ভূমিকম্পের অত্যধিক ঝুঁকিতে আছে।



