
আপস করতে মরিয়া জেলেনস্কি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের এক বৈঠকে জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পিঠ ইউক্রেনের দেয়ালে ঠেকে গেছে। যুদ্ধ জয়ের জন্য পুতিন রাসায়নিক অস্ত্রের প্রয়োগ করতে পারেন, এমনটাও বলেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধের যে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে, তাতে খবরের ভেতরকার ঘটনাপ্রবাহকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে পুতিন নয়, বাইডেনের মিত্র ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিরই পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। প্রতিদিন জেলেনস্কি যেভাবে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করলেই তার মরিয়া হয়ে ওঠার কারণ বোঝা যায়।
গত সোমবার জেলেনস্কি বলেছেন ‘যুদ্ধবিরতি, রুশ সেনা প্রত্যাহার এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তার গ্যারান্টির বিনিময়ে সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদ না চাওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি আলোচনা করতে প্রস্তুত। এটি সবার জন্য একটি আপস; কারণ পশ্চিমা দেশগুলো জানে না তারা ন্যাটোর বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কী করবে, ইউক্রেন নিরাপত্তার গ্যারান্টি চায় এবং রাশিয়াও চায় না (পূর্ব ইউরোপে) ন্যাটোর আরও সম্প্রসারণ হোক।’ জেলেনস্কি আরও বলেছেন, যুদ্ধবিরতি হলে এবং নিরাপত্তার গ্যারান্টি প্রদানের প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগিয়ে গেলে ক্রিমিয়া এবং রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে থাকা পূর্ব ডনবাস অঞ্চল নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত কিয়েভ। গত রবিবার সিএনএনকে জেলেনস্কি বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন রাশিয়ার আগ্রাসনের সমাপ্তি আলোচনায় ব্যর্থ হওয়া মানে ‘তৃতীয় একটি বিশ্বযুদ্ধ’ বেধে যাওয়া। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে প্রস্তুত। আলোচনাই যুদ্ধ বন্ধ করার একমাত্র উপায়। এর আগে গত ৭ মার্চ এবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে আর ইচ্ছুক নয় ইউক্রেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চল নিয়েও আলোচনায় রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
যে ন্যাটোতে ইউক্রেনের প্রবেশের ইচ্ছা নিয়ে এত কিছু, সেই ন্যাটোতেই এখন আর যেতে চাইছেন না জেলেনস্কি। এই যেতে না চাওয়ার জন্য শুধু যে পুতিন দায়ী এমন নয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জেলেনস্কি তার ইউরোপীয় মিত্র ও যুক্তরাষ্ট্রকে যতবার সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন, প্রতিবারই তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। একপর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ নিয়ে তাকে বলতেও শোনা যায়, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে এখন থেকে যত মানুষ মারা যাবেন, এর জন্য দায়ী থাকবে ন্যাটো।’ এরপরই মূলত সুর নরম হতে থাকে জেলেনস্কির। এ নিয়ে মোট তিনবার তিনি ন্যাটোতে প্রবেশ করতে চান না বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে চান বলেও একাধিকবার জানিয়েছেন। কিন্তু এত আহ্বানেও সাড়া দিচ্ছেন না পুতিন। পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, জেলেনস্কির সঙ্গে এখনই বৈঠক করতে চান না পুতিন। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে, ইউক্রেনে রুশ বিশেষ অভিযান নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো যে হারে রুশবিরোধী অবস্থান নিয়েছে, পুতিন চাইছেন সেই মিডিয়াতেই যেন বারবার ফলাও করে প্রচার হয় জেলেনস্কি বলছেন ইউক্রেন আর ন্যাটোতে যুক্ত হতে চায় না। বিশ্লেষকরা একে যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক দিক হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।



