বাংলাদেশ

ইফতারে আওয়ামী লীগকে আমন্ত্রণ জানায়নি বিএনপি

রূপসী বাংলা ডেস্ক:প্রতিবছর রাজনীতিবিদদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বিএনপি। তবে এবছর ইফতারে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে।  আগামীকাল শনিবার ইফতার মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির একাধিক সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। যদিও আমন্ত্রণ জানালেও গত কয়েক বছরে ইফতারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেউ অংশ নেননি।

বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হচ্ছে অতিথিদের কাছে। প্রতিবারের মতো কয়েকটি ইফতার মাহফিল করা হবে। এখন পর্যন্ত তিনটি ইফতার মাহফিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ এতিম শিশুদের সঙ্গে লেডিস ক্লাবে ইফতার করা হবে। সব সময় এই ইফতারের আয়োজক হিসেবে থাকেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কারারুদ্ধ থাকায় এবার তিনি থাকতে পারছেন না। এবার বিএনপির আয়োজনে ইফতার অনুষ্ঠানের জন্য পাঠানো আমন্ত্রপত্রগুলোতে আয়োজক হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। কিন্তু কয়েকটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকায় ইফতার মাহফিলগুলোতে থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। মূলত তারাই হবেন আয়োজক।

আগামীকাল রাজনীতিবিদদের সম্মানে এবং পরেরদিন কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল করা হবে। এর বাইরে আরও কয়েকটি ইফতার মাহফিল হবে। সেগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিএনপি সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ইফতারে বরাবরই সব দলের প্রধান, সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এবার আওয়ামী লীগ ও ১৪-দলের শরিকদের ছাড়া অন্য প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বরাবরের মতো এতিম শিশুদের নিয়ে শুরু হচ্ছে বিএনপির ইফতার আয়োজন। আজ প্রথম রোজায় রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এই ইফতার মাহফিল হবে। সব সময় এই ইফতারের আয়োজক হিসেবে থাকেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কারারুদ্ধ থাকায় এবার তিনি থাকতে পারছেন না।

সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩৪ বছর ধরে বিএনপির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের সময় এবারই তিনি প্রথমবারের মতো কারাগারে আছেন। পাশাপাশি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলছেন সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা। এসব কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সর্ম্পকের তিক্ততা বেড়েছে। ফলে ইফতারে আওয়ামী লীগকে আমন্ত্রণ জানায়নি বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নেতা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই আমন্ত্রণ জানানোটা অর্থহীন। তা ছাড়া খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির প্রধান এখন তারেক রহমান। তিনিই আমন্ত্রণ জানিয়ে পত্র দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারেককে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে যে ধরনের মনোভাব তাতে আমন্ত্রণ পাঠানোটা যৌক্তিক মনে করেনি বিএনপি। এ কারণে এবার আওয়ামী লীগকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

রাজনীতিবিদদের সম্মানে এবারের ইফতারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিকদের বাইরে আমন্ত্রণ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-রব) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এ ছাড়া সিপিবিসহ বাম রাজনৈতিক দল ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোকেও ইফতারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা হওয়ায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের কারাগারে আছেন। ১৬ মে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি। তবে আরও অন্তত ৬টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় এখনই কারাগার থেকে মুক্ত হতে পারছেন না তিনি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension