
কার্কের মৃত্যুতে উল্লাসকারীদের চাকরিচ্যুতির ডাক ভ্যান্সের, এরইমধ্যে বরখাস্ত বহুজন
ভ্যান্সের এ মন্তব্যের পর, পাইলট, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং এমনকি একজন সিক্রেট সার্ভিস কর্মীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্কের মৃত্যু নিয়ে ‘অগ্রহণযোগ্য’ মন্তব্য করার কারণে তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বা পুরোপুরি বরখাস্ত করা হয়েছে।
মার্কিন কনজারভেটিভ প্রভাবশালী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্কের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্লাস প্রকাশকারীদের চাকরিচ্যুত করার দাবি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার এ মন্তব্যের পর, পাইলট, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং এমনকি একজন সিক্রেট সার্ভিস কর্মীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্কের মৃত্যু নিয়ে ‘অগ্রহণযোগ্য’ মন্তব্য করার কারণে তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বা পুরোপুরি বরখাস্ত করা হয়েছে। খবর ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল।
গত বুধবার উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে বিতর্ক অনুষ্ঠান চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কার্ক। এরপর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই এ ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক সহিংসতায় বিশ্বাস করি না, তবে ভদ্রতায় বিশ্বাস করি। এ ধরনের পোস্টকারীদের প্রকাশ্যে ডাকুন, এমনকি তাদের নিয়োগকর্তাকেও জানাতে হবে।’
তার এ আহ্বানের পর চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই। এ ধরনের কঠোরতার প্রভাব শিক্ষাক্ষেত্রেও পড়েছে। সাউথ ক্যারোলিনার ক্লিমসন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের একজন কর্মীকে বরখাস্ত করেছে এবং দুজন অধ্যাপককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের বিরুদ্ধেও।
ওয়াশিংটন পোস্টের সাবেক কলামিস্ট কারেন আত্তিয়াহও তার চাকরি হারিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে কার্কের মৃত্যু নিয়ে কিছু মন্তব্য করার পর তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। এ ঘটনাগুলো শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ‘ক্যানসেল কালচার’ বা বাতিল সংস্কৃতির বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
সিক্রেট সার্ভিসের প্রধান শন কারান কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে উত্তেজিত পরিস্থিতি আরো ঘনীভূত না করতে। এদিকে অফিস ডিপো, ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি এবং ওয়াশিংটন পোস্টের মতো প্রতিষ্ঠানও একই কারণে কর্মীদের চাকরি বাতিল বা স্থগিত করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত নিয়োগকর্তাদের ‘অ্যাট-উইল’ চুক্তির আওতায় কর্মী বরখাস্ত করার ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এসব বরখাস্ত বাকস্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করছে।



