
চিটাগাং এসোসিয়েশন নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন: জবরদখল, ৩ লক্ষাধিক ডলারের অনিয়ম ও ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ
বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে ভবন দখল, নির্বাচনী জালিয়াতি ও তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ; হিসাব হস্তান্তরের দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে গতকাল ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার ‘চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইন্ক’-এর ব্যানারে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৮ জুনের অন্য পক্ষের একটি সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা হিসেবে আয়োজিত এই সভায় বর্তমান কার্যকরী পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে ভবন জবরদখল, ৩ লক্ষাধিক ডলারের আর্থিক অনিয়ম এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার তীব্র অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন সিরাজী ও ট্রাস্টি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান শাহজাহান সিকদার। পরে তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির মেয়াদের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৬০ হাজার ডলার ব্যয় করা হয়। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার শেখ খালেদ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভয় দেখিয়ে লং আইল্যান্ডের একটি ডানকিন ডোনাটসে বসে ফেসবুকের মাধ্যমে পূর্ব ঘোষিত ফলাফল পরিবর্তন করে একটি ‘জাল ফলাফল’ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে চার্চ সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে এবং হাসপাতালের বেড থেকে ভার্চুয়ালি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রহসনের আয়োজন করা হয় বলেও তারা দাবি করেন।
নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ (তাহের-আরিফ গোষ্ঠী) কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ হিসাব বা অডিট ছাড়াই প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ডলার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি গত ২২ মাস ধরে তারা ভবনের ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ভাড়া আদায় করে আসছে বলেও দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লক্ষাধিক ডলারের কোনো হিসাব চট্টগ্রামবাসী পায়নি বলে নেতৃবৃন্দ জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে সংগঠনের কোনো ট্যাক্স ফাইল করা হয়নি। প্রপার্টি ট্যাক্স পরিশোধ না করায় সংগঠনটি তার ‘নট ফর প্রফিট’ (অলাভজনক) স্ট্যাটাস হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সিটি কর্তৃপক্ষ ভবনটি বাজেয়াপ্ত করার অবস্থায় পৌঁছেছে।
গত বছরের মার্চ মাসে বিরোধী পক্ষ গায়ের জোরে ভবনের তালা ভেঙে পুলিশ ডাকে এবং বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ‘ড্রাগ ডিলিং’-এর মতো গুরুতর ও মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ভোররাতে সেহরি খাওয়ার সময় সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আহসান হাবিবকে গ্রেপ্তারসহ অন্যান্য নেতাদের পরিবারকে আতঙ্কিত করা হয়। তবে দীর্ঘ ছয় মাস তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ অক্টোবর আদালত এই মামলাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট হিসেবে খারিজ করে দেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বর্তমান নেতৃত্ব নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং মূল বাদী আবু তাহেরের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছে বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে নেতৃবৃন্দ বলেন, কোরামবিহীনভাবে ভিন্ন লোকজনকে কো-অপ্ট করে সংগঠন পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি। তারা ভাড়াটিয়াদের ওপর হয়রানি ও মামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রবাসে চট্টগ্রামবাসীর ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনকে আর যেন হেয় প্রতিপন্ন করা না হয়। অবিলম্বে সংগঠনের সকল হিসাব ও কাগজপত্র প্রকৃত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য হান্নান চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব, সিনিয়র সহসভাপতি মোক্তাদির বিল্লাহ, সহ-সভাপতি আলী আকবর বাপ্পী ও আইয়ুব আনসারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, উপদেষ্টা মোহাম্মদ দিদার, কোষাধ্যক্ষ মো. সুমন উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ, দপ্তর সম্পাদক শিমুল বড়ুয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন (আরিফ), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আব্দুল ওদুদ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. জাহিদুল আজম (জাহিদ), কার্যকরী সদস্য নুরুস সোফা এবং সাধারণ সদস্য মোহাম্মদ শওকত আলী, খাইরুল বাশার, অমল বড়ুয়া ও বিধান বড়ুয়া প্রমুখ।



