প্রধান খবররাজনীতি

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভাবনা আওয়ামী লীগে গুরুত্বহীন

রূপসী বাংলা ডেস্ক:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপির অংশ না নেয়ার হুমকি আমলে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। আইনি জটিলতার কারণে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে সে দায় ক্ষমতাসীন দলের নয়। তাই খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কিছু করার নেই। এছাড়া সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন দেয়াসহ বিএনপির একেক নেতার একেক দাবি নিয়ে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বললে তারা এসব মন্তব্য করেন। ক্ষমতাসীন দলের মনোভাব হচ্ছে-বিএনপি নির্বাচনে আসলে ভালো না আসলো আরও ভালো। বিএপিকে বড় রাজনৈতিক দল বলা হলেও এ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের দু জনই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। বিএনপির দাবি-দাওয়া নিয়ে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না। ক্ষমতাসীন দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন রোহিঙ্গা আশ্রয় দেয়া এবং দেশের উন্নয়নে মানুষের কল্যাণে নেয়া পদক্ষেপগুলো জাতীয়-আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে সুনাম অর্জিত হয়েছে তাতে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বহি:বিশ্বে বিএনপির সমালোচনার কোন সুযোগ থাকছে না। সারা বিশ্বের সকল সরকার প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে এবং উন্নত জীবন-যাপন বিধানে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই বলেই মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা।

তারা মনে করেন বহি:বিশ্বে বিএনপির সরকার বিরোধী অভিযোগও কোন কাজে আসবে না। তাই আগামী একাদশ নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া না নেয়া নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কোন আগ্রহ নেই। নেতারা মনে করেন বাংলাদেশে ৭৫ পরবর্তী যত সরকার ক্ষমতায় এসেছে, এর মধ্যে সবচেয়ে সেরা সরকার শেখ হাসিনার সরকার।  শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন হয়। বিদেশেও দেশের সুনাম বাড়ে।

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, গত নয় বছরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার গৃহীত পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ শেষ করাসহ সবগুলো উন্নয়ন তার হাতেই উদ্বোধন করতে একাদশ নির্বাচনে জয়লাভ করাই আওয়ামী লীগের একমাত্র লক্ষ্য।  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করে হ্যাট্রিক করতে চায় আওয়ামী লীগ। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপি কোন চ্যালেঞ্জ নয়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে যথাসময়েই একাদশ নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর দলটি। জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যতা করতে  নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনকৃত সকল রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিবে বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রত্যাশা করে। তবে কেউ যাতে নির্বাচন ভুন্ডলের ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেজন্য সরকার ও দল সতর্ক অবস্থানে থাকবে। নির্বাচনে  কোন রকম প্রতিবন্ধকতা যাতে কোন গোষ্ঠী করতে না পারে তৃনমূলের প্রশাসনে নজরদারি করতে কেন্দ্রীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে আসুক বা না আসুক সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বিএনপির জন্য নির্বাচনী ট্রেন থেমে থাকবে না। জনগণ এখন নির্বাচনমুখী। তাই আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে বিএনপির লাভ হবে না। বিএনপি শুধু খোয়াব দেখবে। আর আন্দোলন হবে না। বাংলাদেশে মানুষ এখন পুরোপুরি নির্বাচনের মুডে। নির্বাচনের আগে বিএনপির কোনো আন্দোলনই সফল হবে না।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তাদের নির্বাচনকালীন সরকারের আমন্ত্রণ জানানোর কোনো চিন্তা-ভাবনাও সরকারের নেই। বিএনপি খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে আসবে না, তারা এভাবে যে ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছেন, এতে লাভ হবে না। তারা না আসলেও নির্বাচনী ট্রেন তাদের জন্য থেমে থাকবে না। দেশের সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাতীয়-আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ক্ষমতাসীন দলের যেসব নেতারা কাজ করছেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারা মনে করেন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতারা এখন যা বলছেন তা শুধু প্রচারণার জন্যই বলছেন।  একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আসবেই। নির্বাচনে বিএনপি আসবে ধরে নিয়েই মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন ভুন্ডুল করার সক্ষমতা বিএনপির নেই। নির্বাচন হবেই। ক্ষমতাসীন দলের উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক প্রবীণ নেতা বলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বহি:বিশ্বের কোন দেশ কি বলল তা আমলে নেয়ার কিছু নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অভিজ্ঞ পার্লামেন্টরিয়ান শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, আমাদের প্রভু জনগণ,বিদেশিরা নয়। এটা ১৯৭৫ ও ২০০১ সাল নয়, বিদেশিরা এসে মাতব্বরি করবে। এই বাংলাদেশে কোনো বিদেশি কোনো মাতব্বরি করতে পারবে না। কারও কথায় এই বাংলাদেশ চলবে না। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি। আগামী ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন হবে। আর যদি পরাজিত শক্তি বা অন্য কোনো অপশক্তি ক্ষমতায় আসে তাহলে আমাদের এই অগ্রযাত্রা বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা আবার পিছনের দিকে চলে যাবো। বাংলাদেশে শক্তি দুইটা। একটা হলো স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি। আরেকটি স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি। বাংলাদেশে কিন্তু স্বাধীনতার কোনো বিপক্ষ শক্তি ছিল না। একটাই শক্তি ছিল বঙ্গবন্ধুর সময়। এই বাংলাদেশে কোনো বিদেশি কোনো মাতব্বরি করতে পারবে না। কারও কথায় এই বাংলাদেশ চলবে না। এই দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও নির্বাচন এই দেশের মানুষ নির্ধারণ করবে। বিদেশিরা কিছু করতে পারবে না।

দলীয় সুত্রগুলো জানায়, একাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরেই সারাদেশে  নির্বাচনী গণজোয়ারের সৃষ্টি করবে আওয়ামী লীগ। এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান সরকারের পক্ষে জাতীয়-আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে ও দাতাগোষ্ঠীর সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ কূটনৈতিক টিম কাজ করছে। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ এবং পুনরায় সরকার গঠনের পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। বিএনপি নির্বাচনে এলো-কি এলো না তা নিয়ে ভাবছে না আওয়ামী লীগ। তাদের দাবি-দাওয়াও পাত্তা পাচ্ছে না আওয়ামী লীগে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension