
টালমাটাল বিশ্ব আবহাওয়া, কানাডার দাবানলে নিউইয়র্কে সতর্কতা
কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় বায়ু দূষণজনিত স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গ্রিস, তুরস্ক ও আলবেনিয়ার বনাঞ্চলের আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি দমকল কর্মীরা। নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে কসোভোতে। এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন জায়গায় তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা বাসিন্দাদের। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
এমনই ভয়াবহ দাবানল অব্যাহত আছে তুরস্কের জনপ্রিয় পর্যটন শহর অ্যান্টালিয়ায়। শুক্রবার শহরটির বনাঞ্চলের একাধিক জায়গায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এ দাবানল নিয়ন্ত্রণে অগ্নি নির্বাপক হেলিকপ্টারে করে পানি ছিটাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দাবানল আরো ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নেভানোর কাজে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও।
একইভাবে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে আলবেনিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলেও। তীব্র তাপ প্রবাহের কারণে আলবেনিয়ার অন্তত বিশটি জায়গায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এ আগুন নেভানোর কাজে দমকল কর্মীদের সহায়তায় ৯০ জন সেনা মোতায়েন করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। এরিমধ্যে দাবানলে কয়েকটি আবাসিক ভবন পুড়ে যাওয়ায় এবং কয়েকজন আহত হবার পর ঝুঁকিপূর্ণ ছয়গ্রাম থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এখনো নেভেনি গ্রিসের ক্যাথেরা দ্বীপের বনাঞ্চলের দাবানলও। বছরের তৃতীয় দফার তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত দেশটি। আগুনে প্রাণহানি এড়াতে নতুন করে সরিয়ে নেয়া হয়েছে তিনটি গ্রামের সব বাসিন্দাকে। আর কসোভোতে তীব্র গরমের মধ্যে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে আরো বিস্তীর্ণ এলাকায়। সেখানে সৃষ্ট ১৭টি দাবানলের মধ্যে এখনো সক্রিয় রয়েছে অন্তত ১২টি। আগুনে পুড়ে গেছে মারা গেছে বিভিন্ন খামারের পশু।
ইউরোপের মতো দাবদাহ পুড়ছে এশিয়ার কয়েকটি দেশও। দক্ষিণ কোরিয়ায় বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপদাহ। দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার দেশটির বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক এক ডিগ্রিতে পৌঁছায়। এ অবস্থায় দেশটিতে জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য সতর্কতা।
এশিয়া ছাড়িয়ে আমেরিকার তাপ প্রবাহের কারণে নাভিশ্বাস উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের। মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার সেখানকার তাপমাত্রা ছিলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তা ৪২ ডিগ্রি অনুভূত হয়। এ অবস্থায় দিনের বেলা প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
একদিনে যখন গরমে হাঁসফাঁস করছে নিউইয়র্কবাসী অন্যদিকে, দেশটির নিউ মেক্সিকোর রুইডোসো এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যায় নতুন করে কেউ হতাহত না হলেও আরো অনেক ঘরবাড়ি ভেসে গেছে বন্যার পানিতে। এর আগে বন্যায় আটকে পড়া বেশ ক’জনকে উদ্ধার করে জরুরি সহায়তাকারীরা।
ফিলিপাইনের লা ইউনিয়ন প্রদেশে শক্তিশালী টাইফুন কো মে আঘাত হানার পর থেকেই তীব্র বৃষ্টির কারণে বন্যা অব্যাহত রয়েছে। সেখানে এখনো মৌসুমি তীব্র ঝড় অব্যাহত থাকায় বহু গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এছাড়া বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ দুর্যোগে।



