
নিউইয়র্কে তাঁর সংগীতশিক্ষার উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিনামূল্যে গান শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অর্জনের পাশাপাশি সংগীতশিক্ষা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছেন রন্টি দাশ। ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এ সেরা মেলোডি সিঙ্গার (ফিমেল) বিভাগে সম্মানিত এই শিল্পী নিউইয়র্কে এমন একটি উদ্যোগ গড়ে তুলতে চান, যেখানে বিভিন্ন বয়স ও প্রয়োজনের শিক্ষার্থীদের গান শেখার সুযোগ থাকবে।
‘রন্টিস মিউজিক কিচেন’ নামের প্রস্তাবিত উদ্যোগে শাস্ত্রীয় সংগীত, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, আধুনিক বাংলা গান ও লোকসংগীত শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি থাকবে বিশেষ ভয়েস ট্রেনিং। সরাসরি উপস্থিত হয়ে শেখার পাশাপাশি অনলাইনেও পাঠ নেওয়ার সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এই উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিনামূল্যে সংগীতশিক্ষার ব্যবস্থা। নিজের শিল্পীজীবনের পাশাপাশি আরও বেশি শিশুর শেখার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন রন্টি।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য বাংলা গান শেখা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলার একটি পথ হতে পারে। রন্টির পরিকল্পনায় বাংলা গানের বিভিন্ন ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকায় সংগীতচর্চার সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এই যোগসূত্রও গুরুত্ব পাচ্ছে।
শিক্ষাদানের এই ভাবনার পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ সংগীতচর্চা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা। ২০০৬ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান’-এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পাওয়ার পর আধুনিক গান, লোকসংগীত ও প্লেব্যাকে কাজ করেছেন তিনি। টেলিভিশন এবং কনসার্টেও গান পরিবেশন করেছেন।
তাঁর গানের মধ্যে রয়েছে ‘হ্যালো বৃষ্টি’, ‘হৃদয় যেখানে’, ‘উড়ালিয়া’ ও ‘অভিমানী’। চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী এখন নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। বাংলাদেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশের শ্রোতাদের সামনে গান পরিবেশনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রন্টির হাতে ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড 2026 তুলে দেন সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভীন। নতুন সম্মাননা তাঁর শিল্পীজীবনের অর্জনকে সমৃদ্ধ করেছে। আর সংগীতশিক্ষার পরিকল্পনা তাঁকে সামনে এগোনোর আরেকটি ক্ষেত্র দিচ্ছে—নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ গড়ে তুলতে সহায়তা করা এবং শিশুদের সংগীতচর্চায় অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো।



