
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস আবারও উত্তাল
রূপসী বাংলা ঢাকা আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট: বিক্ষোভ, সহিংসতা, সংঘর্ষে আবারও উত্তাল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। গেল সপ্তাহের সহিংসতার পর ৮ ডিসেম্বর শনিবার আন্দোলনকারীদের পুর্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট ভবন অভিমুখী র্যালি কর্মসূচির বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো প্যারিস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
৮ ডিসেম্বর শনিবার র্যালিতে অংশগ্রহণকারী প্রায় ১লাখ ২৫ হাজার বিক্ষোভকারী ফ্রান্স জুড়ে প্রতিবাদে যোগ দেয়। যার মধ্যে শুধু প্যারিসের পথেই নামে প্রায় ১৫ হাজার বিক্ষোভকারী।
বিক্ষোভ প্রদর্শনের এক পর্যায়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রচেষ্টা চালানো হলে ব্যাটন পুলিশের একটি দল সরাসরি চার্জে নামে। এ সময় ক্ষুব্ধ ইয়েলো ভেস্ট কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠলে জলকামান ব্যবহারে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়, কয়েকশ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে আর্মড পুলিশ। সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। এছাড়া পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে প্যারিস ভিত্তিক সংবাদপত্র লঁ প্যারিসিয়ানের দুই ফটো সাংবাদিক আহত হন, যার মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবারের ঘটনায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ফ্রান্স স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফ কাস্তেরার জানান, বিক্ষোভে ১৭ পুলিশ সদস্যসহ ১৩৫ জন আহত হয়েছে। ১ হাজার ৩৮৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং অপর ৯৭৪ জনকে নাশকতা সৃষ্টির দায়ে গ্রেফতার করা হয়। বিক্ষোভ মোকাবেলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফ ক্যাসনার ‘জিরো টলারেন্স’র কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো ক্ষমতায় আসার দেড় বছরের মধ্যে এই প্রথম এত বড় বিক্ষোভ মোকাবেলা করছেন। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন।
এদিকে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বিক্ষোভ মোকাবিলায় ফ্রান্স সরকারের পদক্ষেপ যথাযথ নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
উল্লেখ্য, জ্বালানি দ্রব্য ও নিত্যপণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনটি ৫ম সপ্তাহের মত অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের সাথে সরকার পক্ষের সমঝোতা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবার পর গত সপ্তাহে প্যারিসে ব্যাপক সহিংসতা চালায় কর্মীরা।
শনিবারের বিক্ষোভের সময়ও বহুসংখ্যক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং দোকানপাট লুট করা হয়েছে। বিক্ষোভ মোকাবেলায় পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে এবং তিনশ’র বেশি ইয়েলো ভেস্টকর্মীকে আটক করে।
আজকের বিক্ষোভ মোকাবেলার জন্য সারাদেশে ৮৯ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরমধ্যে শুধু রাজধানী প্যারিসেই মোতায়েন করা হয় আট হাজার পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা আগেই বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছিল ফলে রাজধানী প্যারিসের জাদুঘর, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এবং মেট্রো বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে প্যারিস এক রকমের ভূতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন



