
রাম মন্দিরে ২০০ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে তোলপাড়
অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থ নিয়ে বড় বিতর্ক সামনে এসেছে। মন্দির পরিচালনাকারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনার সময় প্রায় ২০০ কোটি টাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ধর্মীয় মহল পর্যন্ত ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে মন্দিরে জমাপড়া অনুদানের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে কিছু অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসে। দানের বাক্সে জমা পড়া অর্থ এবং হিসাবের খাতায় নথিভুক্ত অর্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের জেরেই বিস্তারিত অডিট ও যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সূত্রের দাবি, তদন্তকারীরা অনুদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছেন। মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মী ও কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্ব পায় যখন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে দাবি করেন, রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তিনি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তার বক্তব্য, কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশও একই দাবি তুলেছে। তাদের বক্তব্য, মন্দিরে আসা অনুদানের পরিমাণ বিপুল। ফলে হিসাব ব্যবস্থাপনায় সামান্য গাফিলতিও বড় প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় বলেছেন, নিয়মিত অডিট প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই হিসাব পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা ২০০ কোটি টাকা তছরুপ বা আত্মসাতের অভিযোগকে সমর্থন করে।
তার দাবি, দানের অর্থ গণনা, ব্যাংকে জমা এবং নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে অনুদানের অর্থ হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
তবে বিতর্ক থামছে না। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। ভক্তদের অনুদানের অর্থ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রকৃত সত্য কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাম মন্দির শুধু ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় নয়, সাম্প্রতিক ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই সেখানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে অডিট প্রক্রিয়া চলছে। এখনও কোনো আদালত, সরকারি তদন্ত সংস্থা বা চূড়ান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক থামার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।



