
বিজয়ের দিনলিপি- ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১
পরাজিত হওয়ার ভয়ে লে. জেনারেল আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু বিবিসি তার তার এই গোপন অভিসন্ধিটি বিবিসি ফাঁস করে দেয়। তারপর তিনি নিজের দুর্বলতা আড়াল করতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল গিয়ে অহঙ্কারের সঙ্গে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সাংবাদিক কোথায়? আমি তাদের জানাতে চাই, আমি কখনই আমার সৈন্যদেরকে ছেড়ে যাব না।‘
মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবিমান ঢাকার বেতার কেন্দ্রে বোমা হামলা চালায়। তারা এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে রকেট হামলা চালায়।
বিমান হামলার ফলে চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দর স্থবির হয়ে পড়ে। কয়েকটি কয়েকটা জাহাজভর্তি পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গোপসাগর দিয়ে পালানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। এসব জাহাজের একটা নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের পতাকা উড়িয়ে পালাতে চেষ্টা করছিল। জাহাজটিতে লেখা ছিল সেটি সিঙ্গাপুরের।
জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধিত্বকারী আগা শাহী মহাসচিব উ’থান্টকে ভারতের সেনা প্রত্যাহার করার কথা বলতে বলেন। চীনের অস্থায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিপো ফেইসেজ বলেন, ভারতের কর্মকান্ড তাদের সম্প্রসারণবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী চেহারাকে উন্মোচন করেছে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে যৌথবাহিনী সর্বাত্মক সাফল্য অর্জন করে। রংপুর ও দিনাজপুর পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জামালপুরের গ্যারিসন ছেড়ে ঢাকার দিকে পালাতে থাকে। ঢাকার কাছে এসে তারা যৌথবাহিনীর মুখোমুখি এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিহত হয়। সেখানে প্রায় ১,৫০০ পাকিস্তানি সৈন্য প্রাণ হারায়। বাকিরা আত্মসমর্পণ করে।
আল বদরের খুনিরা দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সিরাজউদ্দীন হোসেন এবং পিপিআইয়ের প্রধান প্রতিবেদক সৈয়দ নাজমুল হককে তাদের বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নয়া দিল্লিতে বলেন, ভারত জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে নি, প্রস্তাবটি ভারত বিবেচনায় রেখেছে। এই পরিস্থিতির উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশের একটা নিজস্ব সরকার থাকবে এবং ভারতে থাকা এক কোটি শরণার্থী নিজেদের মাটিতে ফিরে যেতে পারবে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সৌজন্যে ইংরেজি থেকে অনূদিত -মুখা।



