আন্তর্জাতিক

বৃটেনের পার্কে তরুণীকে ধর্ষণ, পাকিস্তানি নাগরিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

বৃটেনের নটিংহ্যামশায়ারের একটি পার্কে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে শেরাজ মালিক নামে পাকিস্তানি নাগরিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশটির আদালত উল্লেখ করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন ‘বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায়’ তরুণীর ওপর যৌন হামলা চালিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে নটিংহ্যামশায়ারের সাটন লন পার্কে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ২৮ বছর বয়সী শেরাজ মালিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার বার্মিংহাম ক্রাউন কোর্ট তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজা শেষে আরও চার বছর তাকে বর্ধিত লাইসেন্সের আওতায় নজরদারিতে থাকতে হবে।

কী ঘটেছিল

আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ওই ১৮ বছর বয়সী তরুণী ও তার এক পুরুষ বন্ধু মদ্যপানের পর সাটন লন পার্কে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে তরুণীর বন্ধু অন্য এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে সাময়িকভাবে পার্কের বাইরে যান এবং মালিক ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে মেয়েটির খেয়াল রাখতে বলেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, তরুণী যখন অপরিচিত কয়েকজন পুরুষের সঙ্গে একা ছিলেন, তখন তাদের মধ্যে একজন তাকে পার্কের নির্জন স্থানে নিয়ে যান টয়লেটের অজুহাতে এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

প্রসিকিউটর নিকোলাস করসেলিস কেসি আদালতকে জানান, এরপর শেরাজ মালিকও ওই তরুণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তাকে আরেকটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় তিনি তরুণীকে শারীরিকভাবেও আঘাত করেন।

তবে বিচার চলাকালে মালিক আদালতে দাবি করেন, তিনি অন্যদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছিলেন এবং গাঁজা সেবন করছিলেন। পরে ওই তরুণী ও তার বন্ধুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
অভিযুক্ত মালিক বলেন, তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মতিতেই হয়েছিল এবং তিনি তরুণীকে আঘাত করেননি। তবে আদালত তার এই দাবি গ্রহণ করেননি।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ

রায় ঘোষণার সময় বিচারক সাইমন অ্যাশ কেসি বলেন, মালিক জানতেন যে তরুণী অত্যন্ত মাতাল অবস্থায় ছিলেন এবং নিজেকে রক্ষা করার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তবুও তিনি তার ওপর হামলা চালান।
বিচারক বলেন, যখন তরুণী প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল, তখন আপনি তার মুখমণ্ডল ও মাথায় জোরে আঘাত করেছিলেন। আপনি তাকে যেসব কথা বলেছেন, সেগুলো তাকে আরও অপমান ও হেয় করার শামিল।

আদালতে আরও উঠে আসে, হামলার পর মালিক ওই তরুণীকে বারবার অশালীন ভাষায় অপমান করেছিলেন।

বিচারক বলেন, সম্মতির ধারণা, ব্যক্তিগত অধিকারবোধ এবং নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মালিকের মধ্যে ‘বিকৃত চিন্তাভাবনার’ প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত তার অপরাধের দায় স্বীকার করেননি কিংবা অনুতাপও প্রকাশ করেননি। ফলে তিনি জনসাধারণের জন্য ‘উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, শেরাজ মালিক পাকিস্তানের নাগরিক এবং আশ্রয়ের আবেদনকারী হিসেবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। যুক্তরাজ্যে আসার আগে তিনি ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিতে বসবাস করেছিলেন।

ঘটনার এক বছরেরও কম সময় আগে তিনি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং তখনও তার আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি।

অন্যদিকে, তরুণীকে প্রথমে ধর্ষণ করার অভিযোগ যার বিরুদ্ধে উঠেছে, তার পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension