
ভারতে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন: বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে ধরে নেওয়া যায়?
‘কেউ বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাঁকে বাংলাদেশি বলে সরকার ধরে নিতে পারে?’– বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগে গত শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই প্রশ্ন তুলেছেন। সুপ্রিম কোর্ট সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন, ভাষার কারণে কাউকে বিদেশি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে কিনা। খবর দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
বেসরকারি সংস্থার আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাভাষী মানুষদের অবৈধ অভিবাসী বলে ধরে নিচ্ছে। নয়াদিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানাসহ একাধিক রাজ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি পক্ষপাত, বৈষম্য এবং নির্বিচার আটক করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের যথাযথ যাচাই, সুরক্ষা বা আন্তঃরাজ্য সমন্বয় প্রটোকল না মেনে আটক করা হয়েছে। কেন্দ্রের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সরকারি কৌঁসুলি তুষার মেহতাকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট ভাষায় কথা বলাটা বিদেশি হিসেবে ধরে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট কিনা, এটি ঠিক কিনা। আপনি স্পষ্ট করুন।’
বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব তার মুখের ভাষার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা যেতে পারে না। আবেদনটি পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিককল্যাণ পর্ষদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এটি এমন সময় ঘটল, যখন তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
শুক্রবার শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, কলকাতা হাইকোর্ট এক নারীর আবেদনের শুনানি স্থগিত করে দিয়েছেন। ওই নারীকে বাংলাদেশি সন্দেহে ‘বের করে দেওয়া হয়েছিল’। হাইকোর্টকে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে আবেদন বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছেন, দুটি আবেদন ভিন্ন। হাইকোর্ট তাঁর শুনানি চালিয়ে যেতে পারেন।
প্রশান্ত ভূষণ সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, ওই নারীকে শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে নির্বাসিত করা হয়েছিল।
সংবাদপত্রটি আইনজীবীকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘তারা বলছে, বাংলা হলো বাংলাদেশি ভাষা। তাই, যারা বাংলা ভাষায় কথা বলে, তারা অবশ্যই বাংলাদেশি।’
প্রশান্ত ভূষণ আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি থাকা উচিত। এ ধরনের নির্বাসন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ‘কোনো দেশ গ্রহণ করতে রাজি না হলে আপনি কাউকে সে দেশে ঠেলে দিতে পারেন না।’
এ মামলায় বেশ কিছু প্রশ্ন জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্ট এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।



