খেলানিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল: ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশি শিল্পীর ম্যুরাল নিয়ে চমক

শাহ্ জে. চৌধুরী | নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ফাইনাল। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই মহারণের দিকে, যেখানে নতুন চ্যাম্পিয়নের হাতে উঠবে স্বপ্নের ট্রফি। তবে শুধু খেলা নয়—এবারের ফাইনালকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ শিল্পীর অসাধারণ শিল্পকর্ম।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল ম্যুরাল এঁকেছেন শিল্পী জিহান ওয়াজেদ। এই চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে নিউজার্সি ও নিউইয়র্কের নগরজীবনের ছাপ, পাশাপাশি আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন ভিআইপি দর্শকদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক অনন্য দৃশ্য অভিজ্ঞতা।

প্রায় ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্টেডিয়ামটিকে সাজানো হয়েছে নতুন রূপে, আর তার ভিআইপি লাউঞ্জে জিহান ওয়াজেদের ম্যুরাল যোগ করেছে অতিরিক্ত সৌন্দর্য ও শিল্পময়তা।

জিহান ওয়াজেদ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেছেন। নিউইয়র্কের বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারের প্রবেশদ্বারে তার আঁকা স্থায়ী ম্যুরাল, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪, কুইন্স হাসপাতাল, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে তার কাজ প্রশংসিত হয়েছে।

তার শিল্পকর্মে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির ছোঁয়া স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। লাল-সবুজের আবহে ফুটে ওঠা তার চিত্রগুলো প্রবাসে থেকেও শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার এক আন্তরিক প্রয়াস।

চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি ভাস্কর্য, কোরিওগ্রাফি ও নতুন মিডিয়াতেও সক্রিয় জিহান ওয়াজেদ। তার ম্যুরালগুলো মানবিক সংযোগ ও শান্তির বার্তা বহন করে। ‘Hustle and Bustle’ শীর্ষক তার একটি ম্যুরাল কুইন্স বরোর বহুমাত্রিক জীবনধারা ও প্রাণচাঞ্চল্যকে তুলে ধরে।

জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকাসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও তার ম্যুরাল ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে ডাইভারসিটি প্লাজায় আঁকা ‘বাংলাদেশ ম্যুরাল’ কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

জিহানের জন্ম লিবিয়ার বেনগাজীতে। তার পিতা ডা. ওয়াজেদ খান, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক। নিউইয়র্কেই বেড়ে ওঠা জিহান স্টাইভ্যাসেন্ট হাইস্কুল ও বারুখ কলেজে পড়াশোনা করেন। যদিও তার একাডেমিক বিষয় ছিল পারসেপচুয়াল সাইকোলজি, তবুও তার প্রকৃত আগ্রহ ছিল চিত্রকলায়।

কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শৈশব থেকে নিজের প্রচেষ্টা ও সৃজনশীলতায় তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব শিল্পধারা। গ্রাফিতি থেকে শুরু করে ম্যুরালে তার যাত্রা আজ আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রশংসিত।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে তার শিল্পকর্মের উপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও এক গর্বের বিষয়। জিহান ওয়াজেদ তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করে চলেছেন, প্রতিভা ও সৃজনশীলতা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

বিশ্বকাপের উত্তেজনার পাশাপাশি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দেয়ালে আঁকা এই শিল্পকর্মও হয়ে থাকবে এবারের আসরের এক অনন্য আকর্ষণ।

ছবি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension