অর্থনীতি ও বাণিজ্যযুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার দুই বছরে সর্বনিম্নে

নজিরবিহীন ঊর্ধ্বগতির পর মূল্যস্ফীতিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে দুই বছরে সর্বনিম্নে নেমেছে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হার। গ্যাসোলিনের মূল্য, উড়োজাহাজ ভাড়া, ব্যবহৃত গাড়ি ও মুদিপণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে থাকায় প্রভাব পড়েছে সার্বিক সূচকে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনেই এমন চিত্র উঠে এসেছে। খবর এপি।

প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের মে মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি কমে ৪ শতাংশে নেমেছে। যদিও পরিমাণটি ফেডারেল রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। আর মে-জুনে সার্বিকভাবে মূল্য বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় জুনে মূল্য বেড়েছে ৩ শতাংশ, যেখানে মে মাসের তুলনায় বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। ২০২১ সালের মার্চের পর বার্ষিক মূল্যস্ফীতি হিসেবে যা সর্বনিম্ন।

মূল্যস্ফীতি কমার জেরে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ফলে বেড়েছে স্টক ও হুন্ডির দাম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সুদহার বাড়াবে না বলে বিশ্বাস জন্ম নিচ্ছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে। ফেড ২০২২ সালের মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ১০ বার সুদহার বাড়িয়েছে, সুদহার উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০ বছরের সর্বোচ্চে। গত মাসে ব্যাংক সুদহার স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে সরকারি প্রতিবেদনে চাকরির বাজারে গতিশীলতার চিত্র ফুটে ওঠে। যদিও গত বছরের তুলনায় চাকরি বৃদ্ধির হার ধীর ছিল, তার পরও বেকারত্বের হার কমেছে ৩ দশমিক ৭ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে।

যখন সুদহার বাড়ানো হচ্ছিল, অর্থনীতিবিদরা বেকারত্বের বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। যদিও এখনো মূল্যস্ফীতি নাগালের মধ্যে আনা যায়নি। কিন্তু কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ দাবি করেছেন, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সময়েই ফেডের প্রত্যাশিত ২ শতাংশের মধ্যে নেমে যাবে।

প্রকৃত মূল্যস্ফীতি মে-জুনে বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ, যা অর্থনীতিবিদদের ঘোষিত পূর্বাভাস থেকে কম। দুই বছরের মধ্যে মাসিক ভিত্তিতে সবচেয়ে কম মূল্যস্ফীতির হার। জুনে প্রকৃত বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশিমক ৮ শতাংশ। তুলনামূলক বেশি হলেও মে মাসের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশের থেকে কম।

দুই মাসে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২২ সালের জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এক বছরে গ্যাসের মূল্য প্রতি গ্যালনে ৫ ডলার কমেছে। মুদিপণ্যের মূল্য কমেছে তিন মাসে। কমেছে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্য। প্রতি ডজন ডিমের দাম কমেছে ২ ডলার ২২ সেন্ট। গত মাসের তুলনায় মূল্য ৭ শতাংশ কমেছে। তার পরও সূচক মহামারীপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে বেশি ছিল। মহামারীর আগে মূল্য ছিল প্রতি ডজন ১ ডলার ৬০ সেন্ট।

অর্থনীতিবিদরা এত দ্রুত মূল্যস্ফীতির পতন প্রত্যাশা করেননি। মে-জুনে উড়োজাহাজ ভাড়া কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। হোটেল খরচ কমেছে ২ শতাংশ ও গাড়ির ভাড়া ১ দশমিক ৪ শতাংশ। পরিষেবা খাতেও চিত্র ছিল অনুকূলে। অটোর ইন্স্যুরেন্স খরচ গত বছরের তুলনায় কমেছে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও রেস্তোরাঁ খাত এখনো ঊর্ধ্বমুখী। মে-জুনে খরচ বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ৮ শতাংশ। রেস্তোরাঁ মালিকরা মজুরি বাড়িয়েছেন শ্রমিকদের জন্য। অন্যদিকে অনেকই তাদের উচ্চ খরচের হার পার করে দিচ্ছেন ভোক্তার কাঁধে।

প্রিন্টিংয়ের ক্ষেত্রে খরচ এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ রূপ নিয়েছে। পেছনে প্রধান কারণ ছিল উচ্চ মজুরি। মে মাস ও জুনে ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। প্রভাব পড়েছে নতুন গাড়ির মূল্যেও। কারণ নতুন গাড়ির উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়েছে। নতুন গাড়ির মূল্য ডিসেম্বরে ছিল সর্বোচ্চ, যদিও গত মাসে ৩ শতাংশ কমেছে। বাড়ি ভাড়াসংক্রান্ত খরচও নিম্নমুখী। যার প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চলতি বছরের শেষে দিকে মূল্যস্ফীতি আরো দ্রুত কমে আসবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension