
রূপসী বাংলা ডেস্ক: অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা যেকোনো বয়সের মহিলাদের মধ্যেই দেখা যায়। বিশেষ করে যারা অবিবাহিত, তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এই সমস্যা। অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণে সন্তান ধারণে সমস্যাসহ আরো নানা রকমের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। কিন্তু কী করবেন? জেনে নিন অনিয়মিত পিরিয়ডকে নিয়মিত করার দুর্দান্ত ঘরোয়া কৌশল বা টোটকা।
আদা: বহু গুণ সম্পন্ন এই আদা কেবল সর্দি কাশি সারাতেই কাজে লাগে না, পিরিয়ডকে নিয়মিত করতেও এর জুড়ি মেলা ভার। কীভাবে ব্যবহার করবেন এই আদা?
১ কাপ পানি নিন। এতে ১ চা চামচ মিহি আদা কুচি ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এর সঙ্গে সামান্য চিনি বা মধু যোগ করুন। এই পানীয়টি দিনে ৩ বার করে খাবার খাওয়ার পর খান। এইভাবে এই মিশ্রণটি নিয়মিত ১ মাস খেতে পারলে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা সহজেই দূর হবে।
দারুচিনি: ঋতুস্রাবকে নিয়মিত করতে দারুচিনি আর একটি কার্যকরী উপাদান। এই দারুচিনি ব্যবহার করে ঋতুকালীন ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কীভাবে ব্যবহার করবেন দারুচিনি?
এক গ্লাস দুধে আধা চামচ দারুচিনির গুঁড়া যোগ করুন। এর সঙ্গে মধু দিতে পারেন। এই মিশ্রণ পান করুন ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ। অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা কেটে যাবে। এছাড়াও খেতে পারেন দারুচিনির চা বা প্রতিদিন এক টুকরো করে দারুচিনি চিবিয়ে খেতে পারলেও উপকার পাবেন।
হলুদ: হালকা গরম দুধের সাথে মেশান ১/৪ চাচামচ হলুদ গুঁড়ো। হালকা গরম থাকতেই খেয়ে নিন। প্রতিদিন খেলে অবশ্যই পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।
ধনিয়া: দুকাপ পানিতে এক চা চামচ আস্ত ধনিয়া দিয়ে অল্প আঁচে পানিটা ফুটিয়ে নিতে থাকুন, যতক্ষণ না সেটা অর্ধেক হচ্ছে। পিরিয়ডের ডেট আসার আগের সপ্তাহ থেকে দিনে তিনবার এই পানি খান।
তুলসি পাতা: এক চামচ তুলসি পাতার রস, ৫-৬ ফোঁটা লেবুর রস, এক চামচ মধু আর ছোট এক কাপ পানি মিশিয়ে নিন, সাথে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন।
তিল ও গুড়: এক মুঠো তিল টেলে নিয়ে এক চামচ গুড়ের সাথে মিশিয়ে বাটতে হবে। এই মিশ্রণ প্রতিদিন খালি পেটে খেতে হবে।
গাজর: গাজর আয়রনের একটি ভালো উৎস, যা শরীরের হরমোনাল ফাংশন-কে সঠিকভাবে চলতে সাহায্য করে। অনিয়মিত পিরিয়ড-এর ক্ষেত্রে এক গ্লাস গাজরের রস প্রতিদিন খেতে হবে তিনমাস পর্যন্ত।
মৌরি: দুই টেবিল চামচ মৌরি এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে সারারাত। পরদিন সকালে পানিটা ছেঁকে নিয়ে খেতে হবে। কার্যকর ফলাফল পেতে এক মাস নিয়মিত খেতে হবে মৌরি ভেজানো এই পানি।
কুঁচি ধনেপাতা: ধনেপাতার রস পিরিয়ড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে খুব উপকারী। ধনেপাতার রস খেতে না পারলে, ধনেপাতা বাটা খেতে পারেন ভাতের সাথে।
করলার রস: পিরিয়ডের সমস্যা সমাধানে করলার রস ও বেশ কার্যকরী। দিনে একবার বা সম্ভব হলে দুবার করলার রস খান টানা কয়েক সপ্তাহ। এছাড়াও করলার রস ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রেও বেশ উপকারী।
পুদিনা পাতা: একচামচ মধুর সাথে পুদিনা পাতার রস মিশিয়ে দিনে তিনবার খেতে হবে একটানা কয়েক সপ্তাহ।
ভিটামিন সি: অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খুব জরুরি। পিরিয়ডের আগের সপ্তাহ থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার রাখুন ডায়েটে।
এগুলোর পাশাপাশি যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত-
** শরীরের ওজন ঠিক রাখা ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা।
** স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।
** ধূমপান বা অন্য কোন অ্যালকোহলিক পানীয় না খাওয়া… ইত্যাদি।
তবে উপরে যেসব সমাধানের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো নিতান্তই ঘরোয়া সমাধান। বড় কোন শারীরিক সমস্যা না থাকলে হয়তো দু’তিন মাসেই এর ফলাফল পাওয়া যাবে। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে যদি আপনার অনিয়মিতভাবে পিরিয়ড হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। ভালো থাকুন।



