
অভিবাসন অভিযান নিয়ে মামলায় নথি তলব বাতিল করলেন বিচারক
শিকাগোতে ICE-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত; মূল মামলার সিদ্ধান্ত আসতে পারে ১৭ নভেম্বর
হোসনেআরা চৌধুরী : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্য ও শিকাগো নগর কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। সোমবার বিচারক সারাহ এলিস মামলার স্বার্থে বিভিন্ন নথি সংগ্রহের জন্য দায়ের করা একটি সাবপোনা বাতিল করেন। তবে এ সিদ্ধান্তে মূল মামলার অবসান ঘটেনি।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্য ও শিকাগো কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘অপারেশন মিডওয়ে ব্লিৎজ’-এর সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক পদ্ধতির পরিবর্তে সামরিক কায়দায় অভিযান চালিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নির্বিচারে থামিয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ, অনুমতি ছাড়া লাইসেন্স প্লেট পরিবর্তন এবং যথাযথ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তারের অভিযোগ। এসব অভিযোগ আদালতে উত্থাপিত হয়েছে; এগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
মামলার অংশ হিসেবে বাদীপক্ষ ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত অনুরূপ একটি মামলায় জমা দেওয়া বিভিন্ন নথি চেয়েছিল। এসব নথির মধ্যে ছিল অভিবাসন অভিযানের নির্দেশনা, ফেডারেল কর্মকর্তাদের ই-মেইল, খুদে বার্তা এবং মোবাইল ফোনের রেকর্ড।
বিচার বিভাগের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, নথি সংগ্রহের আবেদনটি অতিরিক্ত বিস্তৃত এবং সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে অন্য আদালতে বিরোধ চলছে।
বিচারক এলিসের মতে, মূল মামলার কতটুকু টিকে থাকবে, তা নির্ধারণের আগে বিপুল পরিমাণ নথি সংগ্রহ করা অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই তিনি আপাতত সাবপোনা বাতিল করেছেন। তবে তাঁর আদেশে বাদীপক্ষের ভবিষ্যতে নতুন করে নথি তলবের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
মামলার কিছু অংশ খারিজের আবেদনের ওপর বিচারকের সিদ্ধান্ত আগামী ১৭ নভেম্বর আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইলিনয় ও শিকাগো কর্তৃপক্ষের এই মামলায় ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের পরিধি সীমিত করা, স্কুল, আদালত ও হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে বিধিনিষেধ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের অধিকার নিয়ে চলমান বৃহত্তর আইনি বিতর্কের অংশ। পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তে মামলাটি কীভাবে এগোবে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



