প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

অর্থবহ সংলাপ চায় জামায়াত

আমরা এখন জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে অবস্থান করছি। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা দেশবাসীকে বিচলিত করেছে। আমরা বিচলিত না হলেও সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। এজন্য জামায়াত দ্রুততম সময়ে নির্বাহী পরিষদের সভায় মিলিত হয়েছে। আমরা আলোচনার পরে উপনীত হয়েছি যে, সংঘাত এবং কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ির মধ্য দিয়ে জাতিকে আর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া সমীচীন হবে না। এরজন্য প্রয়োজন অর্থবহ ডায়ালগ। এটার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলাম কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানাই সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বানের জন্য। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আশা করি সেই বৈঠকে ভালো কিছু বের হয়ে আসবে।

আওয়ামী লীগের নানা ধরনের অন্যায়ের উদাহরণ টানার পর তিনি বলেন, ’৭১ থেকে এই পর্যন্ত অনেক কিছু অর্জন করার ছিল। হয়ত অনেক প্রত্যাশা পূরণও হয়েছে। কিন্তু স্বাধীন দেশে জনগণের মূল জায়গায়গুলোয় অপূরণ থেকে গেছে। দেশে অনেক কিছুই হয়নি।

’২৪ এ নির্মম কায়দায় যা করা হয়েছে তার সাক্ষী বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব। আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা টানা ১৫ বছর দুঃশাসন উপহার দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে পারিপার্শ্বিক আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা আশা করি, জাতির মধ্যে যে আশঙ্কা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তা জাতি হিসেবে আমরা সন্তোষজনক জায়গায় পৌঁছাতে পারব। ’২৪ এ পরিবর্তন হয়েছে তাতে বিশাল একটা আশা রয়েছে। জনগণ মনে করে বিগত সরকার আমলে মানুষের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। পরপর তিনটি নির্বাচনে জাতির সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে।

একটি ভালো নির্বচানের প্রত্যাশা রেখে তিনি বলেন, আমরা দুটা রোডম্যাপ চেয়েছিলাম। একটা সংস্কারের ও আরেকটি নির্বাচনের। কিন্তু কোনো রোডম্যাপ আসে নাই। আমরা দাবি জানাই, রোডম্যাপ প্রকাশ করা হোক। তাহলে জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দুটি রোডম্যাপ জরুরি।

আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচারের কোনো প্রক্রিয়া দেখছি না। বিচার না হলে অপরাধচক্র বৃদ্ধি পাবে। বিচারের নামে অবিচার আমরা চাই না।

মানবিক করিডোরের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বলেছি এরসঙ্গে জাতীয় স্বার্থ জড়িত। এটা তাড়াহুড়া করে করা যাবে না। এখন দেশে পার্লামেন্ট নেই। সকল পক্ষের সঙ্গে না বসে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। রাজনৈতিক দল, সিকিউরিটি এক্সপার্টের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সবথেকে ভালো হয় নির্বাচিত সরকারের উপর ছেড়ে দেয়া।

চট্টগ্রাম পোর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের লাইফলাইন এই বন্দর। দেশের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

সেনাবাহিনীর নানা কাজের প্রশংসা করে আমীরে জামায়াত বলেন, কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হোক তা চাই না। সেনাবাহিনীকে নিয়ে যেকোনো ধরনের মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকা উচিত।

তিনি বলেন, পরিবর্তনের ৯ মাস পার হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে দিতে চান। আমরা তার কথায় বিশ্বাস রাখতে চাই। আমরাই তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি তো জোড় করে এই দায়িত্ব নেন নাই। আমাদের দায়িত্ব তাকে সহযোগিতা করা উচিত। আমরা যতোটুকু সম্ভব তাকে সহযোহিতা করেছি। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সরকার যেহেতু আমাদের সকলের সরকার আসুন আমরা এই সরকারে সহযোগিতা করি। সরকার যদি এই সহযোগিতা গ্রহণ করে তাহলে সমস্যা সমাধান সুন্দরভাবে হবে।

গাজার মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা তাদের সুন্দরভাবে বাঁচতে দেই। যারা যতোটুকু সীমা লঙ্ঘন করেছেন তার বিচার হওয়া উচিত। আমরা যুদ্ধ বিরতি না যুদ্ধ বন্ধ চাই। এটাও ডায়ালগের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সিরিয়াতেও বাইরের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা উচিত। রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করে নিঃস্ব করে দেয়া হয়েছে। এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। তাদের যুগের পর যুগ ধারণ করা ঝুঁকির বিষয়। বিশ্বকে বলতে চাই রিলিফ দিচ্ছেন এজন্য শুকরিয়া। কিন্তু এটা কোনো সমাধান না। প্রত্যাবাসনই সমাধান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা অনেক ত্যাগ করেছি। আরও ত্যাগ শিকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা চাই আল্লাহর তায়ালার দেয়া বিধান, এই বিধানের মাধ্যমে আগামী বাংলাদেশের ফয়সালা হোক এটা আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি। এই বিধানের আওতায় সকল ধর্মের মানুষই নিরাপদ থাকবেন। এজন্যই আমাদের লড়াই, সংগ্রাম। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাজের এই রূপান্তর চাই। সকল দেশপ্রেমিক শক্তির কাছে ব্যক্তির কাছে আকুল আবেদন এই প্রক্রিয়ায় যেনো এগিয়ে এসে সহায়তা করেন। দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গ্রহণে তারা অংশীদার হয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension