
আদালত অবমাননা: ড. ইউনূস নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন
আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে আদেশ প্রতিপালন না হলে সেটি অনিচ্ছাকৃত উল্লেখ করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে ভার্চুয়ালি হাজির হয়ে তারা এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে আদালত ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে তাদের অব্যাহতি দেয় এবং আগামী ২২ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে।
আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। আর আদালত অবমাননার আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী।
আইনজীবীরা জানান, সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা না করে গত বছরের ২৫ অক্টোবর গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিসে প্রতিষ্ঠানটির ৯৯ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে ৩৮টি রিট আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে ৩৮ কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে চাকরি থেকে অপসারণের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
এসব আদেশ প্রতিপালন না করায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আশরাফুল হাসানকে ভার্চুয়ালি হাজিরার তলব এবং আদালত অবমাননার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে নাএ প্রশ্নে রুল জারি করে।
ড. ইউনূসের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় দুজন (ড. ইউনূস ও আশরাফুল হাসান) বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তারা আদালতের কোনো আদেশ অবমাননা করেন নি। অনিচ্ছকৃতভাবে যদি আদালতের আদেশের অবমাননা হয়ে থাকে, তাহলে তারা ক্ষমাপ্রার্থী। এরপর বিচারক দুজনকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন।’❐



