
আফগান সীমান্তের কাছে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৭ পাকিস্তানি সেনা
এক আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তানের আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অন্তত সাতজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে শুক্রবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এই হামলাটি ঘটে দোহায় পাকিস্তান ও আফগান প্রতিনিধিদলের মধ্যে নির্ধারিত যুদ্ধবিরতি আলোচনার কয়েক ঘণ্টা আগে, সেখানে দুই দেশ সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে আলোচনা করার কথা।
এর আগে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দায়িত্ব এখন আফগান তালেবানের হাতে। প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার একদিন পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘যদি তারা (আফগান তালেবান) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে ও আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে চায়, তাহলে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত।’
তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামের সন্ত্রাসী সংগঠনকে নির্মূল করতে হবে এবং আফগান ভূখণ্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ইসলামাবাদ বারবার অন্তর্বর্তীকালীন আফগান তালেবান প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়ে আসছে, যেন তারা টিটিপি জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে আনে। টিটিপি হলো একাধিক সন্ত্রাসী সংগঠনের একটি জোট, যা আফগান-পাকিস্তান সীমান্তের দুর্গম অঞ্চলে সক্রিয়।
শাহবাজ শরিফ আরো বলেন, যদি তালেবান প্রশাসন সত্যিই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে থাকে, তবে তাদের এখনই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘যদি তারা সত্যিকারের আন্তরিক হয়, তাহলে সামনে আসুক।’ শরিফ আবারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি দৃঢ় দাবির ভিত্তিতে বজায় রাখা সম্ভব হবে। ডন পত্রিকার উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি এই যুদ্ধবিরতি কেবল সময় কেনার কৌশল হয়ে থাকে, তাহলে আমরা তা গ্রহণ করব না।’
টানা এক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই দেশের বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হামলার কারণে। তারা উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একাধিক বোমা হামলাসহ সামরিক বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসছে।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড



