
আরিফ-সাবরিনা মুখোমুখি, দায়ী করছেন পরস্পরকে
নমুনা পরীক্ষার নামে জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার জেকেজি চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফের তিন দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই)।
করোনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার (জেকেজি হেলথকেয়ার) চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক (বরখাস্ত) ডা. সাবরিনা চৌধুরী এবং তার স্বামী (প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী) আরিফ চৌধুরী একে অপরকে দোষারোপ করছেন। তবে পরীক্ষার নামে প্রতারণার কথা স্বীকার করছেন তারা।
নমুনা পরীক্ষার নামে জালজালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবার সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীকে মুখোমুখি করা হলে আরিফকে দেখেই সাবরিনা চিৎকার করে ওঠেন। তার দিকে খেপে গিয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন। আরিফকে উদ্দেশ করে সাবরিনা বলেন- ‘তোর জন্যই আজ আমার এই অবস্থা। তুই আমাকে শেষ করে দিয়েছিস। সবকিছু করে এখন আমাকে ফাঁসিয়েছিস।’
আরিফও পাল্টা জবাবে বলেন, ‘সব দোষ কি আমার? তুমি তো এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলে। তুমিও জানতে সবকিছু।’
বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে এভাবেই দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ চলে বাকবিতন্ডা। গ্রেফতারের পর থেকে নিজেকে জেকেজির চেয়ারম্যান হিসেবে অস্বীকার করতে থাকলেও আরিফের মুখোমুখি হয়ে সে বিষয়ে বুধবার চুপসে যান সাবরিনা।
আরিফ তাকে অভিযুক্ত করে জেকেজির নানা কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা ফাঁস করতে থাকলে ডা. সাবরিনার আর কিছুই বলার থাকে না। এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে মাথা নিচু করে বসে থাকেন।
আগের মতো রিমান্ডেও সাবরিনা জেকেজি’র সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। যদিও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জেকেজি’র সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে এমন ডজনখানেক প্রমাণ পেয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে সাবরিনা তদন্ত কর্মকর্তাদের অধিকাংশ প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারছেন না। কিছু প্রশ্নের অগোছালো উত্তর দিচ্ছেন। তবে গোয়েন্দারা ইতোমধ্যে সাবরিনা ও তার স্বামীর নানা অনৈতিক কাজের তথ্য প্রমাণ পেয়েছেন। তাদের সহযোগী হিসেবে আর কে কে আছেন এসব বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন।তাই শিগগিরই তাদের সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আরিফ সাবরিনার কারণে এই প্রতারণায় জড়িত হয়েছেন বলে দাবী করলেও সাবরিনার দাবি, জেকেজি ও ওভাল গ্রুপের অনেকেই এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত। আরিফ চৌধুরীর এই কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত হয়রানির কারণে তিনি তাকে ডিভোর্সও দিয়েছেন।
সূত্রটি জানায়, আরিফ ও সাবরিনার ওভাল গ্রুপের আরও সাত পরিচালককেও জালিয়াতির ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (১৬ জুলাই) করোনা পরীক্ষার নামে জালিয়াতির মামলায় জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফের চার দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। ❑



