আন্তর্জাতিক

ইউক্রেইনের রেল স্টেশনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ১৪

ইউক্রেইনের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, হামলার সময় দনিপ্রোর একটি প্ল্যাটফর্মে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন অবস্থান করছিল।

ইউক্রেইনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোর প্রধান ট্রেন স্টেশনের একটি জনাকীর্ণ প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার জেট-চালিত ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে।

দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেকসান্দর হাঞ্জা জানান, এই হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ বছরের একটি ছেলেও রয়েছে।

ইউক্রেইনের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা ‘উকরজালিজনিৎসিয়া’ জানিয়েছে, হামলার সময় দনিপ্রোর একটি প্ল্যাটফর্মে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন অবস্থান করছিল।

হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়ার সামরিক বাহিনী।

সংস্থাটির প্রধান ওলেকসান্দর পারতসভস্কি জানান, বৃহস্পতিবারের এই হামলার আগে দনিপ্রোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “তবে দুর্ভাগ্যবশত তখনও প্ল্যাটফর্মে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।”

দনিপ্রোর মেয়র বরিস ফিলাতভ ঘটনাটিকে এক মর্মান্তিক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার ড্রোনটি সরাসরি একটি বেসামরিক ইলেকট্রিক ট্রেনে আঘাত করেছে।

ইউক্রেইনের উদ্ধারকারী দলের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের আঘাতে প্ল্যাটফর্মে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে লাশ। কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটির জানালাগুলো চুরমার হয়ে গেছে।

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “রুশ বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে হামলা চালিয়েছে যেখানে সাধারণ কমিউটার ট্রেন ও যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।”

এই ঘটনার পর রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জি-সেভেনের নতুন নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান জেলেনস্কি। একই সঙ্গে চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

ওই চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্রে রুশ ডিজেল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

ওদিকে, ইউক্রেইনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ শহরের কেন্দ্রস্থলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। আঞ্চলিক প্রধান ভিয়াচেসলাভ চাউস জানান, এ হামলায় শিশুসহ আরও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।

২০২২ সাল থেকে রুশ দখলে থাকা ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়া ওলেশকি শহরে একটি সাময়িক স্থানীয় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টার মধ্যেই এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেইনীয় সামরিক সদস্য ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করেই কেবল তারা হামলা চালাচ্ছে।

তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। ইউক্রেইনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা সংবাদমাধ্যমকে সরবরাহ করা তথ্যে জানিয়েছে, ২০২২ সালে পূর্ণ মাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ৫২১টি ট্রেনের ইঞ্জিনের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই আক্রান্ত হয়েছে চলতি বছরে।

রেল অবকাঠামোতে সার্বিক হামলার সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, ২০২৫ সালের ১,২০৬টি হামলার বিপরীতে চলতি বছর এ পর্যন্ত হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৭০০টিতে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেইনের সামগ্রিক অবকাঠামোর ওপর রুশ হামলা ব্যাপক রূপ নিয়েছে; এর মধ্যে রাজধানী কিইভে দুটি সেতু এবং হামলা চলাকালে একটি মেট্রো ট্রেনে ড্রোনের আঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension