একুশেপ্রধান খবরবাংলাদেশ

একুশের কবিতা ও গানে আছে অনুপ্রেরণা

একুশ আমাদের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ, তা আমাদের চেতনাকে শানিত করে। একুশের আছে নানা কবিতা ও গান।
 
এ দেশের কবি, সাহিত্যিক, সুরকার, গীতিকাররা একুশকে ধারণ করেছেন তাদের লেখায়, সুরে ও কণ্ঠে। আর সেই সব গান, কবিতা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। একুশকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলতে পথ দেখায়।
 
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি/ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’ একুশের এই একটি গান আমাদের একুশের চেতনার সঙ্গে এমনভাবে মিশে আছে, যা আমরা কখনই ভুলতে পারি না।
 
এ গান শুনলেই মনে হয় আমরা ১৯৫২ সালের সেই দিনটিতে ফিরে যাই যেদিন সালাম, রফিক, জব্বারেরা মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিল। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত এ গান চির অম্লান।
 
আরেকটি গান এখনও সবার মুখে মুখে ফেরে। সেটি হল ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।’ এমনি অনেক গানে আমরা পাই একুশকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।
 
গানের মতো কবিতায়ও বারবার উঠে এসেছে অমর একুশে। একুশের প্রথম কবিতাটি লিখেছেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী। সেই কবিতার চরণে আছে, ‘এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে/রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়/ সেখানে আগুনের ফুলকির মতো/ এখানে ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ/ সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।’
 
কবিতাটির আরেকটি জায়গায় আছে ‘যারা আমার অসংখ্য ভাইবোনকে/যারা আমার মাতৃভাষাকে নির্বাসন দিতে চেয়েছে/তাদের জন্য আমি ফাঁসির দাবি করছি।’ শামসুর রাহমানের বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা কবিতার একটি চরণে আছে, ‘তোমাকে উপড়ে নিলে, বলো, কি থাকে আমার? উনিশ শো বায়ান্নর দারুণ রক্তিম পুষ্পাঞ্জলি/বুকে নিয়ে আছে সগৌরবে মহীয়সী।/ সে ফুলের একটি পাপড়িও ছিন্ন হলে আমার সত্তার দিকে/কত নোংরা হাতের হিংস্রতা ধেয়ে আসে।’
 
আহসান হাবীব তার মিছিলে অনেক মুখ কবিতায় লিখেছেন ‘মিছিলে অনেক মুখ/ দেখো দেখো প্রতি মুখে তার/সমস্ত দেশের বুক থরো থরো/উত্তেজিত/শপথে উজ্জ্বল!’/সূর্যের দীপ্তিতে আঁকা মিছিলের মুখগুলি দেখো/ দেখো দৃপ্ত বুক তার/ দেখো তার পায়ের রেখায়/ দেশের প্রাণের বন্যা উচ্ছল উত্তাল।’
 
কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ তার স্মৃতিস্তম্ভ কবিতায় লিখছেন, ‘স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো/চার কোটি পরিবার/খাড়া রয়েছি তো। যে ভিৎ কখনো কোনো রাজন্য/পারেনি ভাঙতে।’
 
এভাবেই কবি-সাহিত্যিকরা আমাদের চেতনার বুদবুদে একুশের চেতনাকে শানিত করেছেন বারবার। এসব গান, কবিতা এখনও আমাদের মধ্যে চিন্তার খোরাক জোগায়। ভাষা সংগ্রামের একুশের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension