
ওয়াশিংটনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলের পাহারায় কয়েকশ’ সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
রাতে ভবনের মেঝেতে তারা অবস্থান করছেন। ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা সহিংস হয়ে উঠতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে ওয়াশিংটন ডিসির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স, ডেইলি মেইল ও এপির।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক ক্যাপিটল হিলে এত সেনা সমাবেশ দেখা যায় নি। ১৬টি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী আগামী কয়েকদিন প্রতিবাদ-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।
এ কারণে গোয়েন্দারা ন্যাশনাল গার্ডকে সতর্ক করেছে। সতর্কতায় বলা হয়েছে- ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে যারা হামলা চালিয়েছিল ২০ জানুয়ারি ও এর মধ্যে তারা আবার হামলা চালাতে পারে। এ কারণে মার্কিন প্রশাসন বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না।
সশস্ত্র হামলা ঠেকাতে ন্যাশনাল গার্ডকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। আফগানিস্তান ও ইরাকে যত মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে সেটির দ্বিগুণ সেনা সদস্য ওয়াশিংটন ডিসিতে মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্যাপিটল হিলের আশপাশে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় শুধু মেটাল ডিটেক্টর নয়, ক্যাপিটল হিলের চারধারে আট ফুট উঁচু ধাতব দেওয়ালও তৈরি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে প্রবেশের সব সড়কপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা গেছে- ন্যাশনাল গার্ডের শত শত সদস্য সশস্ত্র সজ্জিত অবস্থায় ক্যাপিটল ভবনের মেঝেতে শুয়ে আছেন। সেখানেই তারা দিন-রাত পার করছেন। ক্যাপিটলে মোতায়েন সেনা সদস্যদের মাঝে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইক ওয়ালটাজ ও ভিকি হার্টজলারকে পিজ্জার বক্স বিতরণ করতেও দেখা গেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করার আগে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ক্যাপিটলের নিরাপত্তা দেওয়া সেনাদের উদ্দেশে ধন্যবাদ বক্তৃতা করেন। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন, ওই হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং তদন্তে দাঙ্গার আলামত পাওয়া যাচ্ছে।❐



