
১৩ নভেম্বর জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন।
জীবদ্দশায় হুমায়ূন আহমেদের ৫০তম জন্মদিনটি ছিল সবচেয়ে স্মরণীয়। সেদিন দিনভর জন্মদিনের অনুষ্ঠান হয়েছিল রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে। এর আগে কখনো জনসম্মুখে নন্দিত এই লেখকের জন্মদিন উদযাপন করা হয় নি।
তার ৫০তম জন্মদিনকে ঘিরে লেডিস ক্লাবের মাঠটি সাজানো হয়েছিল। সেদিন সকাল থেকে হুমায়ুন আহমেদের একক বইমেলার আয়োজন ছিল। মূলত হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশকরা প্রিয় লেখকের জন্মদিনে তাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
লেডিস ক্লাবে সেদিন ‘আগুনের পরশমণি’ সিনেমার প্রদর্শনী হয়েছিল। এছাড়াও, সন্ধ্যায় একটি নাটিকা মঞ্চস্থ হয়েছিল। তাতে অভিনয় করেছিলেন আসাদুজ্জামান নূর ও আফসানা মিমি। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছিলেন প্রকাশক ফরিদ আহমেদ।
হুমায়ূন আহমেদের ৬০তম জন্মদিনটিও ছিল মনে রাখার মতো। শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরিতে জমকালোভাবে বইমেলা ও জন্মদিনের উৎসব আয়োজন করা হয়েছিল। তা উদ্বোধন করেছিলেন লেখকের মা আয়েশা ফয়েজ। হুমায়ূনের ৬০তম জন্মদিনে ম্যাজিক মুন্সি নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল।
বাংলা সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্র ও গান পালাবদলের এ কারিগর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়ে নিজের জানান দেন। এরপর তিন শতাধিক গ্রন্থ লিখেছেন তিনি। টেলিভিশন নাটকেও আনেন ভিন্ন অধ্যায়।
এসেছে বাকের ভাই, বদি, মুনা, লবঙ্গ, তিতলি, কঙ্কা, হাসান, ছোট চাচা, বড় চাচার মতো অনবদ্য সব চরিত্র।
১৯৯০-এর গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। ২০০০ সালে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ও ২০০১ সালে ‘দুই দুয়ারী’ দর্শকদের দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পায়। ২০০৩-এ নির্মাণ করেন ‘চন্দ্রকথা’।
১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে নির্মাণ করেন ‘শ্যামল ছায়া’ সিনেমাটি। এটি ২০০৬ সালে ‘সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র’ বিভাগে অ্যাকাডেমি পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এছাড়াও এটি কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।
অন্তর্জাল এরপর ২০০৬ সালে মুক্তি পায় ‘৯ নম্বর বিপদ সংকেত’। ২০০৮-এ ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রটি তিনি পরিচালনা করেন। ২০১২ সালে তার পরিচালনার সর্বশেষ ছবি ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ মুক্তি পায়। যা দেশ-বিদেশে প্রচুর আলোচনায় আসে। তার চলচ্চিত্রের মৌলিক গানগুলো তিনি নিজেই রচনা করেন, যার বেশিরভাগই পায় তুমুল জনপ্রিয়তা।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনার কুতুবপুরে, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে শহীদ হন। মায়ের নাম আয়েশা ফয়েজ। তার দুই ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব। প্রত্যেককেই লেখালেখিতে পাওয়া গেছে।
এদিকে তার প্রকাশক ও ভক্তরা একক ও সাংগঠনিকভাবে উদযাপন করবেন হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। এই কিংবদন্তির জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে তার জন্মস্থান নেত্রকোনা এবং সবচেয়ে প্রিয় স্থান গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে।❐



