প্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্র

কমলার বহুজাতিক অস্তিত্বে ভবিষ্যৎ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

বাবা ছিলেন জ্যামাইকান, মা ভারতীয়। উভয়েই অভিবাসী। তাই কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার পরিবর্তিত রূপেরই প্রতিফলন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন তিনি শিকাগোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন গ্রহণের জন্য মঞ্চে পা রাখবেন, তখন তিনি দেশটির দ্রুত বর্ধনশীল জাতিগত শ্রেণিরই প্রতিনিধিত্ব করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিনি এখন বহুজাতিক হিসেবে চিহ্নিত, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ। ২০০০ সালের চেয়ে এ সংখ্যা ২ শতাংশ বেশি। ওই বছরটিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম জাতিভিত্তিক আদমশুমারি হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির লোকজনের সমাবেশস্থল। কিন্তু বাস্তবে কয়েকটি রাজ্য ১৯৬০-এর দশকের নাগরিক অধিকার আইন ও ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত অন্য জাতি-বর্ণে বিয়ে নিষিদ্ধ করা আইনগুলো বাতিল না হওয়া পর্যন্ত জাতিগতভাবে নাগরিকদের আলাদা করে রেখেছিল। এমতাবস্থায় দ্রুত সময়েই এসেছে সামাজিক পরিবর্তন। ২০০৮ সালে দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। আর কমলা যদি আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হন, তবে তিনি হবেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও দক্ষিণ এশিয়া বংশোদ্ভূত প্রেসিডেন্ট।

অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘পিপল ফর আমেরিকান ওয়ে’র সভাপতি শ্বেতাঙ্গ মা ও কৃষ্ণাঙ্গ বাবার সন্তান সোভান্তে মিরিক বলেন, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে বাস করছি, যেখানে ৫০ বছর পর আমরা আমাদের দ্বিতীয় মিশ্র জাতির প্রেসিডেন্ট প্রত্যাশা করছি। এটি সুন্দর।’

এমনটা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আরও বৈচিত্র্যময় দেখাবে। বহুজাতিক মানুষদের অধিকাংশই বর্তমানে ৪৪ বছরের কম বয়সী; এক-তৃতীয়াংশ এখনও শিশু। এ প্রবণতাকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সংখ্যক শ্বেতাঙ্গ বিভ্রান্তি, বিপর্যস্ত হয়ে ও খারাপভাবে নিয়েছেন। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে কৃষ্ণাঙ্গ সাংবাদিকদের এক সমাবেশে কমলার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, কমলা ভারতীয় হয়ে নিজেকে কৃষ্ণাঙ্গ দেখাচ্ছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না, তিনি ভারতীয় নাকি কৃষ্ণাঙ্গ। আপনারা কি জানেন? তবে আমি যে কোনো পরিচয়কে সম্মান করি।’

কমলা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাবা-মায়ের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে জ্ঞাত। ট্রাম্পের মন্তব্যে, কিছু বহুজাতিক লোক তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার প্রতিধ্বনি দেখেছেন– তাদেরও একটি বা অন্যটিকে বেছে নিতে বলা হয়েছিল।

শিকাগোতে ডেমোক্রেটিক জাতীয় সম্মেলনে দলটির নেতারা বলেন, এ বৈচিত্র্যতা কমলাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো নেতা হিসেবে তৈরি করেছে। লেবানন, পুয়ের্তো রিকো ও হাইতি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্ট সম্মেলনের এক সাইডলাইন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যখন আপনার কাছে এমন ব্যক্তি থাকেন, যিনি একাধিক অভিজ্ঞতা বহন করছেন, তখন তিনি সম্পদ।’ যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত পরিসরের প্রেক্ষাপটে এ সক্ষমতা তার ‘আইন প্রণয়ন ও পরামর্শের সক্ষমতাকে বাড়ায়।’

আলজাজিরা জানায়, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পর্দা নামবে ডেমোক্রেটিক জাতীয় সম্মেলনের। আগের দিন বুধবার ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী টিম ওয়ালজ বক্তব্য দেন এবং প্রার্থিতা গ্রহণ করেন। বক্তব্যের পর তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান মঞ্চে ওঠেন। ৬০ বছর বয়সী মিনেসোটার এ গভর্নর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন গ্রহণ করাটা আমার জন্য সম্মানের।’

সম্মেলনের মঞ্চে ডেমোক্র্যাটরা যখন ঝড় তুলছেন, তখন বড় রণের প্রস্তুতি নিতে বসে নেই রিপাবলিকানরাও। জানা গেছে, বিখ্যাত কেনেডি বংশের প্রতিনিধি রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ট্রাম্পকে সমর্থন জানাতে যাচ্ছেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পূর্বাভাস দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সে এক সমাবেশে এ ঘোষণা আসতে পারে। এমনটা হলে ট্রাম্পকে নভেম্বরের নির্বাচনে আরও শক্তিশালী হিসেবে দেখা যাবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension