জীবনশৈলীবাংলাদেশস্বাস্থ্য

ক্যান্সার চিকিৎসার গবেষনায় বাংলাদেশের সাফল্য

আর এন শুভ্র

 

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক:  বিরল ও জটিল ক্যান্সারে আক্রান্ত বাংলাদেশের দরিদ্র কিশোরী অঞ্জনা আক্তার এখন পুরোপুরি সুস্থ। বাংলাদেশের চিকিৎসক অধ্যাপক মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বাকী’র উদ্যোগে আমেরিকার নিউইয়র্কে অবস্থি বিশ্ববিখ্যাত ‘Memorial Sloan Kettering Cancer Center’(MSKCC) এর সাথে যৌথভাবে গবেষনা চালিয়ে বিরল প্রজাতির স্তন‌্ ক্যান্সারে অঞ্জনা আক্তারের সফল চিকিৎসা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির মাধ্যমে অঞ্জনার মতো বাংলাদেশেও ক্যান্সারে আক্রান্ত অনেক রোগীর জীবন রক্ষা সম্ভব মনে করেন চিকিৎসকরা।

মাত্র ৮ বছর বয়সে স্তন ও ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় নোয়াখালীর সেনবাগের দরিদ্র মুদি দোকানির মেয়ে অঞ্জনা। ৭ বার অপারেশন ১৯ বার কেমো থেরাপিতেও অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। যখন জীবন সংক্টাপন্ন হয়ে তার ফুসফুসে ও হাড়ে ক্যান্সার ছড়িয়ে যাওয়ার ফলে মৃত্যুর জন্য প্রহর গুনতে থাকে তখন তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রখ্যাত ক্যান্সার  বিশেষজ্ঞ জাতীয় ক্যান্সার গবেষনা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ‌্যাপক ডাঃ মোল্লা  ওবায়দুল্লাহ বাকীর শরণাপন্ন হন ২০১৬ সনের জুন মাসে।

এরই ফলশ্রুতিতে ১৩ই জুন ২০১৬ সনে অঞ্জনাকে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ‌্যমে ‘গ্লোবাল অনলাইন ব্রেস্ট ক্যান্সার টিউমার বোর্ড’ এর কাছে উপস্থাপন করলে জিসিআই এর সভাপতি অজ্ঞনাকে আমেরিকা এনে নতুন আবিষ্কাকৃত ঔষধ দিয়ে সম্পূর্ণ বিনা মূলে চিকিৎসার প্রস্তাব দেন এবং সে অনুযায়ী নিয়ে নিউইয়র্কের বোষ্টনে ‘গ্লোবাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান পল গস-এর শরণাপন্ন হন ডাক্তার মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বাকী। পরীক্ষামূলক ঔষুধ দিয়ে  চিকিৎসা করে সম্পূর্ণ নিরাময় করতে সক্ষম হয়েছে। জানা যায়, সারা বিশ্বে তার আগে আরও ৪ জন এমন বিরল ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের স্লোন ক্যাটারিং হাসপাতালে চিকিৎসা চলে অঞ্জনার। তার রোগ নিরাময়ের গবেষণায় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লগজো’র মেডিসিন ব্যবহার করায় পুরো খরচ বহন করে প্রতিষ্ঠানটি। ওষুধ সেবনের অল্প কিছুদিনেই সুস্থ বোধ করার কথা জানায় অঞ্জনা।

ক্যান্সারে আক্রান্ত কিশোরী অঞ্জনা আক্তার বলেন, ‘আমার আরেকটা নতুন জন্ম হয়েছে। আমি অনেক অসুস্থ ছিলাম। অনেক কষ্ট হতো। একটা মিনিটের জন্যও আমি ভালো থাকতাম না। আমি ভালো হয়েছি যে হসপিটালে থেকে, সেই হসপিটালের ডাক্তারদের মতোই আমি একজন ডাক্তার হতে চাই, আমার আব্বু-আম্মুর আশা পূরণ করতে চাই ।’  সে এখন নবম শ্রেনীর ছাত্রী।

জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণ থেকে মেয়ের বেঁচে ফেরায় কৃতজ্ঞতা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তার মা।

অঞ্জনা সুস্থ হয়ে ওঠায় বাংলাদেশেও ক্যান্সার নিরাময়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে বলে জানান ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের অধ্যাপক মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বাকী। ক্যান্সারের ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণায় অগ্রগতির কথা জানিয়ে আক্রান্তদের নিরাময়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের অধ্যাপক মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বাকী বলেন, ‘একটা ইয়ং মেয়ে, যার আর্লি গ্রোইং এজে ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ায় তার জীবনের আলো প্রায় নিভে গিয়েছিলো। তার স্বপ্ন ছিলো যে সে বাঁচবে। ক্যান্সার হ্যাজ নো অ্যান্সার – কিন্তু ক্যান্সার আর আগের সেই ভয়ঙ্কর অবস্থায় নেই। ৬০%-এর বেশি ক্যান্সার আমরা প্রিভেন্ট করতে পারি।’

এক হিসেব মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ নারী ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে মারা যান অন্তত দুই লাখ। উন্নত চিকিৎসা আর সঠিক পরিচর্যার ব্যবহারের মাধ্যমে, এই চিত্র পাল্টে দেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

প্রফেসর ডাঃ ওবায়েদুল্লাহ ফেরদ্দৌসী ফাউন্শেন ক্যান্সার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনটিটষ্টিট ৪১৩/১ পি পাইক সাড়া, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬।  মোবাইল ০১৭১০-৯৪১১৯৯, ০১৭১১৩১০৫৩৪

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension