
খালেদাকে স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে রাখা হয়েছে: ফখরুল
রূপসী বাংলা ডেস্ক:খালেদা জিয়াকে স্যাঁতস্যাতে ও পরিত্যক্ত কক্ষে একা কয়েদী হিসেবে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। শনিবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিবদের সাথে বিএনপি মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে এ অভিযোগ করা হয়।
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ফখরুল বলেন, আপনারা শুনে বিস্মিত হবেন, পরিত্যাক্ত ও স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগারে, যেখানে কেউ বাস করে না। ঘরগুলো স্যাঁতস্যাঁতে। সেই কক্ষে তাকে একা কয়েদী হিসেবে রাখা হয়েছে। এমনকি তাকে কোনো ডিভিশন দেয়া হয়নি। চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। যে গৃহ পরিচারিকা দেওয়ার কথা ছিল, সেটাও দেয়া হয়নি। সাবেক প্রধানমত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে এসব সাথে সাথে তার পাওয়ার কথা। আমরা অবিলম্বে ডিভিশন দিয়ে তাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে সমস্ত সুযোগ সুবিধার দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় জেল কোড ভঙ্গের জন্য সরকার দায়ী থাকবে।
তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বক্তব্যে টেলিফোনের মাধ্যমে জানিয়েছেন।
বৈঠকের শুরুর ১ ঘন্টা পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর বের হয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া জন্য মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সভায় তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফখরুল জানান, রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে সরকার যে অত্যাচার চালিয়েছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে তারও নিন্দা জানানো হয়েছে। এ কয়েক দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে কয়েক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, এম এ কাইয়ুম, আবদুল হাই শিকদার, ড. সুকোল বড়ুয়া, মো. শাহজাহান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমদ আযম খান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ঐন্যী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক শুরুর ৫ মিনিট পরেই রফিকুল ইসলাম মিয়া বের হয়ে চলে যান।
এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আপিল, দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও কর্মসূচির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া বিগত দিনগুলোতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো আলাদা-আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতো। এখন থেকে এককভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে- এ সিদ্ধান্তও বৈঠক থেকে আসতে পারে বলে জানা গেছে।



