
খাশোগিকে হত্যার প্রশিক্ষণ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র!
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যে ঘাতক দলটি ইস্তাম্বুলে প্রখ্যাত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করেছিল, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল খোদ যুক্তরাষ্ট্রে। খাশোগি-হত্যা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে শীর্ষ স্থানীয় মার্কিন সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত কাগজপত্র আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। পরে জানা যায়, ওইদিন কনস্যুলেটের অভ্যন্তরেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো সৌদি থেকে আগত ঘাতকদের একটি দল। এ ঘটনায় প্রথম থেকেই সৌদি সরকারের ওপর অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছিলেন তুর্কি তদন্ত কর্মকর্তারা। নানা টালবাহানার পর অবশেষ তাকে হত্যার দায় স্বীকারও করেছে রিয়াদ সরকার। এ ঘটনায় তারা বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। এরপর আর এই তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়েছে বলে শোনা যায়নি।
রবিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার প্রতিবেদক ডেভিড ইগনেশিয়াস দাবি করেছেন, কনসুলেটের ভিতরে তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার রাখা আড়ি পাতার যন্ত্রে ধরা পড়া প্রতিলিপির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুবাদ করেছেন এক সৌদি নাগরিক। যা থেকে স্পষ্ট, খাশোগিকে অপহরণ করে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনাই ছিল ঘাতকদের। ওই যন্ত্রে পাওয়া একটি বার্তায় আরও উঠে এসেছে, খাশোগিকে অবশ করে ফেলতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জেকশনও দেওয়া হয়েছিল। এরপর তার মাথার উপরে একটি ভারি ব্যাগ রাখা হয়। তখন ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না, আমার শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, এরকম কোরো না’বলে আর্তনাদ করছিলেন খাশোগি। কিন্তু তার কথায় কর্ণপাত করেনি ঘাতকরা। ফলে কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যু হয়।
ডেভিডের মতে, খাশোগি মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ গায়েব করার চেষ্টায় নেমে পড়ে ঘাতকেরা। বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে তার মরদেহ খণ্ড বিখণ্ড করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা কিছু কাটার মতো আওয়াজ ধরা পড়েছে ওই যন্ত্রে। আর সেটা খাশোগির দেহ কাটার শব্দ ছিল বলে সন্দেহ তার।
ওই প্রতিবেদকের আরও দাবি, নাম না-প্রকাশের শর্তে বেশ কয়েকজন মার্কিন এবং সৌদি সূত্র কথা বলেছেন তার সঙ্গে। তারা তাকে জানিয়েছেন, খাশোগি হত্যার কিছু দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ‘সৌদি র্যাপিড ইন্টারভেনশন গ্রুপ’র বেশ কয়েকজন সদস্য। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে কাজ করে এই টিম। সালমানের সমালোচক খাশোগিকে খুনের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধেই।
ডেভিড ওই প্রতিবেদনে আরো বলেন, ‘আরকানসাস’র ‘টায়ার-১ গ্রুপ’ বিশেষ অভিযানের কয়েক দফা প্রশিক্ষণ দিতে পারে বলে কয়েকটি সরকারি দপ্তরকে আগেই সতর্ক করেছিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। সৌদির সঙ্গে মৈত্রী প্রক্রিয়ার সূত্রেই এই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছিল। খাশোগি হত্যার আগে-আগেই এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তবে হত্যার ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরুর পরেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দাবি করেছেন প্রতিবেদক ডেভিড ইগনেশিয়াস।
সূত্র: আনন্দবাজার



