
চাদের প্রেসিডেন্টকে গুলি করে হত্যা, দেশজুড়ে কারফিউ
সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবি। এই ঘটনায় দেশটিতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আজেম বেবমেনদাও আগৌনা। খবর বিবিসি।
মুখপাত্র জানান, সোমবার রাজধানী এনজামিনা অভিমুখে বিদ্রোহীরা এগিয়ে এলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মিলে ইদ্রিস ডেবিও ময়দানে নামেন। সেখানে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে রাজধানীতে আনার পথেই মৃত্যু হয়।
৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ইদ্রিস ডেবি দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন। ৬৮ বছরের ইদ্রিস আফ্রিকার দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শাসকদের একজন।
এদিকে ব্যাপক সংঘর্ষের পর বিদ্রোহীদের রুখে দিতে সক্ষম হন চাদের সেনারা।
বিবিসি জানায়, প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর সংবাদে দেশটির সরকার ও পার্লামেন্ট ইতোমধ্যেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে মিলিটারি কাউন্সিলের হাতে। যার নেতৃত্ব দেবেন ইদ্রিসের ছেলে ৩৭ বয়সী ছেলে কাকা। পরবর্তী দেড় বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।
এদিকে রয়টার্সের খবরে জানায়, ওই সংঘর্ষে ৩০০ বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৫ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
১৯৯০ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন ইদ্রিস। গত ১১ এপ্রিল দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতা পান ডেবি। ৭৯ শতাংশ ভোট পান তিনি। নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার এক দিন পর তার মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়।
প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবি বোকো হারাম, সাহেল অঞ্চলের আল কায়েদা এবং ইসলামি স্টেট-সহ (আইএস) বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর (ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র) লড়াইয়ে অন্যতম মিত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
ইদ্রিস ডেবির জন্ম ১৯৫২ সালের ১৮ জুন উত্তর চাদের ফাদারের বারডোবা গ্রামে। তিনি জাঘাওয়া নৃগোষ্ঠীর বিদায়াত বংশের প্রতিনিধি।
বনগরের লিসি জ্যাক মউডেইনাতে যোগদানের আগে তিনি কুরআন ও ফরাসি স্কুলে পড়াশোনা করেন। যেখানে তিনি বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
ইদ্রিস ডেবি এনজামেনায় সেনা অফিসারদের স্কুলে যোগ দেন। এরপরে তিনি পেশাদার পাইলট কোর্সসহ বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন।❐



