
অরূপ রতন ম্লল
বল, কী বলে যে ধন্যবাদ দেব তোমাকে,
তুমি আমার লেখা কবিতা পড়তে চেয়েছ,
এর চেয়ে খুশির খবর আর কী আছে আমার!
সত্যি বলছি; আমি এখন আর কবিতা লিখি না,
আমার সাথে ওরা সব্বাই আড়ি দিয়েছে!
কোনো অক্ষর, শব্দ, সাজানো ফুলবাগান, পাখি,
নদীর ঢেউ, দখিন হাওয়া, রিমঝিম বৃষ্টি—
কেউ এখন আর আমার সাথে গল্প করে না।
জ্যোৎস্নামাখা রাত, তারা ভরা আকাশ,
ঝিঁঝি পোকা, অভিমান করেছে সবাই।
এখন আর আমি কিচ্ছু দেখতে পাই না!
ভাটির দেশের মানুষ বলে শুধু ভাঁটফুলের
সৌরভে যা একটু মোহিত হই।
আর যে-সব ফুল এই বসন্তে ফুটেছে—
আমি কাছে গেলেই তারা কেমন বিবর্ণ হয়ে যায়!
আমার বন্ধুরা বলেছে—‘ওসব কিছু না।
হয় চোখের দোষ, নয়তো মনের দোষ।
বসন্ত ঠিকই বইছে প্রকৃতিতে।’
চোখের দোষ? সে তো আর মাত্র কয়েকটা দিন গেলেই
বর্ষার জলে চোখে ঝাপটা নিলেই সেরে যাবে,
আর প্রকৃতি রানিরও তখন কোনো অভিমান থাকবে না।
নতুন বর্ষার জলে স্নান সেরে, সে-ও তরতাজা হয়ে উঠবে।
আর তখন, তোমার জন্য এত্তো এত্তো কবিতা লিখব।
সে কথা এ চিঠিতে তোমায় জানিয়ে গেলাম আজ।



