
‘জাতীয় ঐক্য জোটের ৭ দফা অযৌক্তিক, অবাস্তব ও অসাংবিধানিক’- কাদের
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে এবং তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে পলাতক রয়েছেন। তিনিও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত। বিএনপির এখন একজন নেতার দরকার, তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো নেতা নেই। খালেদা ও তারেক জিয়া ছাড়া তাদের আর নেতা নেই। দলের অনেক সিনিয়র নেতা থাকলেও তাদের বাদ দিয়ে কেন বিএনপি ড. কামাল হোসেনের কাঁধে ভর করেছে, তা আমাদের জানা নেই।
বুধবার নিজ নির্বাচনী এলাকার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে কেন্দ্রীয় পুজামণ্ডপে শারদীয়া শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
কাদের বলেন, জাতীয় ঐক্য জোটের ৭ দফা অযৌক্তিক, অবাস্তব ও অসাংবিধানিক। এ ৭ দফা নতুন আরেক ষড়যন্ত্র। আগামী ১৫ দিন পরেই নির্বাচনের তফসিল, এর মধ্যে ৭ দফা মানার কোন যুক্তিযুক্ত ও বাস্তবতা নেই। জাতীয় ঐক্য জোট হলো একটা জগা খিচুড়ী। এটা জাতীয় ঐক্য নয়, ঐক্য জোট আসলে কি করবে সেটাই বলা মুষকিল। তারা আসলে নির্বাচন করবে, না নির্বাচন বানচাল করার জন্য এ জোট করেছে তা দেখার বিষয়। তেল আর পানি এক সঙ্গে মিশে না, নানা দলের সংমিশ্রনে যে ঐক্য জোট তা ভাঙন প্রবণ। ভাঙন প্রবণ ঐক্যে শুরুতে দেখা গেল, জোটের দুই দলের দুই উইকেটের পতন হয়েছে। দুই উইকেটের পতনের পর বুঝা যাবে জোট থেকে আর কত উইকেট ঝরে যাবে। তা সামনের দিনগুলোতে আরো স্পষ্ট হবে। আপাতত আমরা সেদিকেই তাকিয়ে আছি। যে রাজনৈতিক দলীয় জোটের কাফেলা এগিয়ে যাচ্ছে এর পরিনতি দেখতে হলে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদেরও ১৪ দলীয় মহাজোট আছে, জাতীয় পার্টি আমাদের সঙ্গে আছে, তাদের সঙ্গে আমাদের সমঝোতাও আছে, তারা জোটেও আছে। সামনে জোটের এবং রাজনৈতিক মেরুকরনের গতি প্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে আমাদের ১৪ দল। আমাদের মহাজোটের এ সাইজের সঙ্গে আরো নতুন দল যুক্ত হবে। জাকের পার্টি আমাদের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, আমাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে শামিল হচ্ছে। পরবর্তি ওয়ার্কিং কমিটির সভায় আলোচনা করবো, জোটের পরিধি বাড়বে কিনা, কিভাবে বাড়বে, কাদের নিয়ে বাড়বে, তা শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলেও অভাব নেই। নির্বাচন আসলে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ হয়। দুইশতাধিক রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত আছে। চারটির অধিক জোটের গন্ধ পাচ্ছি। এদের মধ্যে অনেক মেরুকরণ, এদিক থেকে ওদিক, ওদিক থেকে এদিক। এ খেলা জাতীয় নির্বাচন আসলে চলে। এ খেলায় কখনও কখনও ভাঙণের বাজনাও বাজে, সেটাও স্বাভাবিক। সামনের দিনগুলোতে আরো রাজনৈতিক মেরুকরণ হবে, আরো রাজনৈতিক সমীকরণ হবে। নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। কখনও মেকিং অ্যান্ড ব্রেকিং, কখনও আবার মেকিং হবে, আবার কখনও ব্রেকিংও হবে। এ অবস্থা নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা দেয়া পর্যন্ত এ খেলা চলতে থাকবে। নাটকও আরো জমে উঠবে। এগুলো স্বাভাবিক ঘটনা। সুস্থ্যভাবে এসব প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানায়। কারণ শত ফুল ফুটবে, এটাই তো গণতন্ত্র। সেদিক থেকে এসব জোটগত দলবদ্ধ হওয়া, বিভিন্ন জোটে শামিল হওয়া নিয়ে আমাদের কোন বিরুপ মন্তব্য নেই। কাজেই শেষ পর্যন্ত কি অবস্থা দাঁড়ায় সমীকরণও জোটের সে জন্য সকলকে অপেক্ষা করতে হবে।
ওবায়দুল কাদের পূজামণ্ডপে আগত পূজারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের শত্রু নিরিহ মুসলমানেরা নয়, আপনাদের শত্রু সাম্প্রদায়িক শক্তি। সাম্প্রদায়িক শত্রু যে দলেরই হোক, যে রুপেই হোক এরাই হচ্ছে আপনাদের শত্রু এবং আমাদেরও শত্রু। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সকলের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। আসুন, আমরা সকলে মিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সকলের অভিন্ন শত্রু সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করি, পরাভূত করি। আগামী নির্বাচনে এ অপশক্তিকে পরাজিত করে শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিকৃত ছবি শেয়ার করায় শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় রওশন আরা রুমি নামের এক মহিলাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে আমি সকালে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি। এটা শেরপুরের পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়নি। তারা আমাকে এটা জানানো উচিত ছিল। এ পোষ্টটা যে করেছে তার অনুসন্ধান করা উচিত। পোষ্টটা শেয়ার করায় ওই নারীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে দেয়া আমি মনে করি এটা আইনের অপ-ব্যবহার। এ অপ-ব্যবহার যেন না হয় যে জন্য পুলিশের আইজি, শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার ও স্থানীয় এমপিকে বলেছি। অনতিবিলম্বে ওই নারীকে জামিনের ব্যবস্থা করে মুক্তি দিতে বলেছি। সঙ্গে সঙ্গে রিমান্ডের বিষয়টি বন্ধ করার জন্য বলেছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস, পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প বাণিজ্য সম্পাদক নাজমুল হক নাজিম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী, পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি মিলন কান্তি মজুমদার, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক গোলাম ছাওয়ার, স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাত, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল করিম জুয়েল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মুন্না, সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নুর এ মাওলা রাজু প্রমুখ।



