
জামায়াতে ২৫ নেতার প্রার্থিতা বাতিলের আইনগত ভিত্তি নেই
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতার প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে কোনও আইনগত ভিত্তি নেই বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোনও বাধা আর থাকছে না।
সম্প্রতি সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে ব্যাখ্যা দিতে বলেন আদালত।
নির্বাচন কমিশন আদালতের নির্দেশনার পর রোববার বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন১ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন-দলটির প্রার্থীরা যেহেতু স্বতন্ত্র এবং অন্য একটি দলের প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছে। তাই তাদের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য কোনও আইনগত ভিত্তি নেই। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আদালত তিন দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছিলেন। আমরা কাল (সোমবার) সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।
২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর দলীয় প্রার্থী হতে হলে তিন বছর সংশ্লিষ্ট দলের সদস্য পদে থাকার বিধানটি [১২ এর দফা ১ (ঞ)] বিলুপ্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধন বিলের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে সংসদীয় কমিটি। এ প্রতিবেদন সংসদে তোলেন তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজলে রাব্বী মিয়া।
পরবর্তীতে বিধান তুলে দেওয়ায় ডিগবাজির পথ খুলে যায়। ফলে বর্তমানে যে কোনও ব্যক্তি যে কোনও দল থেকেই সংশ্লিষ্ট দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। আর এই সুযোগটিই নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এছাড়া একই পথে হেঁটে প্রার্থী হয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও গোলাম মওলা রনি। জামায়াতের ২২ নেতা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং ৩ নেতা স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন।
ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হওয়া ২২ জন:
১. ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান
২. সিরাজগঞ্জ-৪ রফিকুল ইসলাম খান
৩. খুলনা-৬ আবুল কালাম আজাদ
৪. কুমিল্লা-১১ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
৫. খুলনা-৫ মিয়া গোলাম পরোয়ার
৬. কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আযাদ
৭. পাবনা-৩ আনোয়ারুল ইসলাম
৮. পাবনা-৫ ইকবাল হোসাইন
৯. যশোর-২ আবু সাঈদ মো. শাহাদাত হোসাইন
১০. ঠাকুরগাঁও-২ আবদুল হাকিম
১১. দিনাজপুর-১ আবু হানিফ
১২. দিনাজপুর-৬ আনোয়ারুল ইসলাম
১৩. নীলফামারী-৩ আজিজুল ইসলাম
১৪. গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান
১৫. সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক
১৬. সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম
১৭. পিরোজপুর-১ শামীম সাঈদী
১৮. নীলফামারী-২ মো. মনিরুজ্জামান
১৯. ঝিনাইদহ-৩ মতিয়ার রহমান
২০. বাগেরহাট-৩ ওয়াদুল শেখ
২১. বাগেরহাট-৪ আসনে আবদুল আলীম
২২. চট্টগ্রাম-১৫ আসনে শামসুল ইসলাম।
স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থী হওয়া ৩ জন:
২৩. চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ নুরুল ইসলাম বুলবুল
২৪. চট্টগ্রাম-১৬ জহিরুল ইসলাম
২৫. পাবনা-১ আসনে নাজিবুর রহমান মোমেন।



