
টঙ্গীতে প্রভাবশালীর দখল থেকে শতকোটি টাকার জমি উদ্ধার
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী-চেরাগ আলী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সংসর উদ্দিন মার্কেট ভেঙে ৭৩ শতক জমি উদ্ধার করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল লতিফ খানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। গাজীপুর সড়ক বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ টঙ্গী বিভাগের শতকোটি টাকা মূল্যের ওই জমিতে মার্কেট নির্মাণ করে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ভাড়া আদায় করছিল একটি প্রভাবশালী মহল।
দখল জায়েজ করতে দেড় শতক জমিতে সম্প্রতি বহুতল মসজিদ নির্মাণ শুরু করে অবৈধ দখলদাররা।
গতকাল বিকেল পর্যন্ত চলা ওই অভিযানে মার্কেটের ৫০টির বেশি দোকান, বিভিন্ন স্থাপনা ও নির্মীয়মাণ মসজিদ ভেঙে উদ্ধার করা হয় দখল করা জমি। উচ্ছেদের পর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে উদ্ধার করা জমি দখলে নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের টঙ্গী কার্যালয়ের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, আগে দুই দফা উচ্ছেদ করার পরও স্থানীয় একটি মহল সরকারি ওই জমি পুনরায় দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে।
সেখানে অর্ধশতাধিক দোকান তুলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অগ্রিমসহ মাসিক ভাড়া নেওয়া হতো। এবার উচ্ছেদ ঠেকাতে ওই জমিতে অবৈধভাবে পাকা মসজিদ ঘর নির্মাণ করছিল অবৈধ দখলদাররা। সরকারি জমি আত্মসাতে অভিনব এই কৌশল জানতে পেরে এসব অবকাঠামো অপসারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করায় শেষে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, ১১২৯ নম্বর দাগের ওই জমি সড়ক ও জনপথের নামে আরএস রেকর্ডভুক্ত। স্বাধীনতার পর ওই সব জমি পতিত ছিল। এই সুযোগে আউচপাড়া এলাকার প্রয়াত সংসর উদ্দিনের ছেলেমেয়ে ও নাতিরা সড়ক ও জনপথের ৭৩ শতক জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করতে থাকে। দখল করা জমির পেছনে রাজউকের ১৫৭ কাঠা আধা ছটাক আয়তনের শিল্প প্লট। প্লটটির মালিক রিদিশা নিটেক্স লিমিটেড।
কারখানায় যাতায়াত ও সামনের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সড়ক ও জনপথের ওই জমি লিজ নিতে রিদিশা নিটেক্স সড়ক ও জনপথ বিভাগে আবেদন করে। বিষয়টি জানতে পেরে দখল পোক্ত করতে মার্কেট ঘেঁষে সম্প্রতি একটি বহুতল মসজিদ নির্মাণ শুরু করে দখলদাররা। শতকোটি টাকার জমি জবরদখল নিয়ে গত সপ্তাহে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হলে বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নজরে আসে। এরপরই উদ্যোগ নেওয়া হয় জবরদখল করা জমি উদ্ধারের।
সূত্র: কালের কণ্ঠ



