প্রবাস

টাঙ্গাইলে নিউ ইয়র্ক প্রবাসীর জমি দখলের প্রচেষ্টা ও হামলা বন্ধে হস্তক্ষেপ কামনা

নিউইয়র্ক প্রবাসী আমিনুল সিকদারের পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা ও সন্ত্রাসী হামলা বন্ধে তিনি অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ প্রধানসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুয়ারপুর) আসনের এমপি তানভীর হাসান ছোট মনিরের মদদপুষ্ট টাঙ্গাইলের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা টাঙ্গাইল জেলা শহরের আশেকপুরে ওই প্রবাসীর জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর ধরে ৬৫ শতাংশ জমিতে তারা বসবাস করছেন। বর্তমানে ওই জমির আনুমানিক মূল্য ৫/৬ কোটি টাকা।

নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এক রেস্টুরেন্টে ১৪ মার্চ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল সিকদার এ অভিযোগ করেন। এসময় তিনি তাদের বাড়ি দখল নিতে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও সাংবাদিকদের সামনেও তুলে ধরেন। আমিনুল সিকদার বলেন, পূর্বশত্রুতা জের ধরে টাঙ্গাইল জেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী অনেক দিন ধরে আশেকপুর আমাদের পৈত্রিক বাড়ি বেদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত ৩ মার্চ সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে প্রবেশ করে টিনের বাউন্ডারি বেড়া, লোহার গেট, ৮টি সিসি টিভি ক্যামেরা ভেঙে ট্রাকে তুলে লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। এ ঘটনায় মামলা করলে আমাকে খুন ও লাশ গুমের হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা।

আমিনুল সিকদার বলেন, ‘এই বিষয়ে গত ৮ মার্চ টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় আমার বড় ভাই ঠান্ডু মিয়া একটি মামলা দায়ের করলে সেদিন রাত ১টার দিকে একই চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী আবারও আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার ঘটনার সিসি টিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, গোপালপুর-ভুয়াপুর আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের মদদপুষ্ট টাঙ্গাইলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান মো. হোসেন সাদাব অন্তু (মনি) নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের মদদপুষ্ট চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমার বড় ভাইকে অস্ত্রের মুখে নিজ বাড়ি হতে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং সংসদ সদস্য নিজমুখে জমি ছাড়ার নির্দেশ অন্যথায় হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন। গত ৩ মার্চের হামলার ঘটনায় আমাদের পক্ষ হতে দায়েরকৃত মামলার আসামিরা হলো মো. আলী হোসেন (৬৫), মো. আব্দুল (৫৭), মো. সবদুল মিয়া (৫৫), মো. তায়েব আলী (৫০), মো. আরিফ (৪০), শহিদুল ইসলাম (৩০), ফিরোজ মিয়া (৩৪), সোহাগ (২৮), মো. আমিনুল ইসলাম (২৭), মো. রফিকুল ইসলাম (৬০), মো. সাহেদ পারভেজ (৫০), শাহজামাল (৪০), মো. শামছুদ্দোহা জোয়াদ্দার (৫০), মো. রফিকুল ইসলাম (মনির) (৪০), রাসেল পারভেজ (৬৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫), নাজমুল হুদা আকন্দ (৪০) ও হজরত আলী (৫৫)।

আমিনুল সিকদার অভিযোগে বলেন, হামলাকারী ও এই মামলার আসামিদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন যারা আমার বাবার হত্যা মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন। আমার বাবাকেও একই সন্ত্রাসী গ্রুপের কিছু ব্যক্তি এই বাসার দখল করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১৯৮১ সালে খুন করে। আমরা এখনও আমার বাবার হত্যার বিচার পাইনি। উপরন্তু আবারও তারা আমাদের বাড়ি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই জমি ছেড়ে না দিলে আমার সব ভাইয়ের পরিণতিও আমার বাবার মতো হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে বারবার।

লিখিত বক্তব্যে আমিনুল সিকদার অভিযোগ করে আরও বলেন, আমরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার না করায় পুনরায় হামলা চালিয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ প্রধানসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। গত ১২ মার্চ এই ঘটনা সাংবাদিকদের জানানোর জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ)- আমার বড়ভাই শাহানুর ইসলাম ঠান্ডু সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেই খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা ওই দিনই আবারও আমাদের আশেকপুরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension