
ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার মনোনয়ন — বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ও বিতর্ক
মাল্টার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব ঘিরে রাজনীতি, কূটনীতি ও নোবেল কমিটির নৈতিক প্রশ্নে তোলপাড়

শাহ্ জে. চৌধুরী │ নিউইয়র্ক, অক্টোবর ০৯, ২০২৫
মাল্টার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ন বর্গ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পকে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন—এ খবর প্রকাশের পরই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক।
বর্গ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “ট্রাম্প বিশ্বের নানা সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার ভূমিকা রেখেছেন—বিশেষত আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, ইউক্রেন, ও মধ্যপ্রাচ্যে।” তাঁর মতে, “ট্রাম্প শান্তি আলোচনার নতুন রূপ দিয়েছেন।”
তবে অনেকেই এই মনোনয়নকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছেন, যেখানে বাস্তব শান্তি উদ্যোগের চেয়ে জনমত প্রভাব ও নির্বাচনী অবস্থানই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
“শান্তির পুরস্কার” নাকি “রাজনৈতিক পুঁজি”?
বিশ্লেষকরা বলছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের আদর্শ হলো—সহিংসতা পরিহার, মানবিক উদ্যোগ, ও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা। ট্রাম্পের মেয়াদকালে এসব মানদণ্ড কতটা পূরণ হয়েছে—এ প্রশ্ন এখনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
টাইম ম্যাগাজিন তাদের বিশ্লেষণে লিখেছে:
“Trump’s peace narrative relies more on self-promotion than on sustainable diplomacy.”
অর্থাৎ, তাঁর শান্তি প্রচেষ্টা যতটা বাস্তব, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রচারনির্ভর।
অন্যদিকে, ট্রাম্প সমর্থকরা বলছেন—তিনি ছিলেন এমন এক প্রেসিডেন্ট যিনি সাহসী কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছিলেন, যুদ্ধ নয় বরং *“চুক্তি”*কে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
জনমত: ‘শান্তি নয়, বিভাজন এনেছেন ট্রাম্প’
একটি Washington Post–Ipsos জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন নাগরিকদের ৭৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন না যে ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।
আরেকটি আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, ৩ জনের মধ্যে ২ জন উত্তরদাতা মনে করেন, তাঁর মেয়াদকালে বিশ্বের সংঘাত ও বিভাজন বরং বেড়েছিল।
নোবেল কমিটির সাবেক উপদেষ্টা ওলে ড্যানবোল্ট মজ মন্তব্য করেছেন, “শান্তি শুধুমাত্র যুদ্ধ বন্ধ করা নয়; শান্তি হলো ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড সেই মানদণ্ডে কোথায় পড়ে—তা কমিটি নিজেই নির্ধারণ করবে।”
কূটনৈতিক প্রভাব ও নোবেল কমিটির চ্যালেঞ্জ
বিশ্বজুড়ে এ মনোনয়ন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, এটি নোবেল কমিটির ওপর অদৃশ্য চাপ তৈরি করবে, বিশেষ করে যখন যুদ্ধ ও সংঘাত-পরিস্থিতিতে পুরস্কারের নৈতিক গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি।
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শুক্রবার, ১০ অক্টোবর।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে—নির্বাচন বা জনমত নয়, বরং প্রকৃত শান্তি প্রচেষ্টাই হবে তাদের বিবেচনার ভিত্তি।
একটি প্রশ্ন রয়ে গেল—“শান্তির সংজ্ঞা কী?”
ট্রাম্প মনোনীত হয়েছেন, কিন্তু পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা—তা নিয়ে বিভক্ত বিশ্ব।
যদি তিনি জয়ী হন, তবে ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে বিতর্কিত শান্তি পুরস্কারগুলোর একটি।
আর যদি না হন, তবুও তিনি সফল—কারণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরেছেন, ঠিক নির্বাচনের বছরেই।
“Peace is not a prize, it’s a practice.” — এই কথাটিই হয়তো ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের আসল সারমর্ম হয়ে উঠবে।



