
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যে ইদলিবে রুশ বিমান হামলা
রূপসী বাংলা ডেস্ক: সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিবে আবারো বিমান হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর রুশ বিমানবাহিনী গতকাল মঙ্গলবার এ হামলা চালায়। ইদলিবে অভিযান চালানোর বিষয়ে সিরিয়ার সরকার এবং দেশটির মিত্র রাশিয়া ও ইরানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি জানানোর মধ্যে রাশিয়ার এই হামলা ফের শুরু হলো।
সিরীয় বিদ্রোহী গ্রুপ এবং একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ কথা জানিয়েছে। গত সপ্তাহে দামেস্কের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল, বাশার সরকার ইদলিব উদ্ধারে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে লক্ষ্যে তারা তুরস্ক সীমান্তের কাছে বিদ্রোহীদের ঘাঁটির কাছে ব্যাপক হারে সেনা জমায়েত করে। কিন্তু সে সময় তুরস্ক এ ধরনের হামলার বিষয়ে সিরীয় সরকারি বাহিনীকে সতর্ক করে দেয়। তুরস্ক বর্তমানে বিদ্রোহী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে।
ক্রেমলিন মঙ্গলবার জানান, ইদলিবের সন্ত্রাসবাদ সমস্যার সমাধানে সরকারি সেনারা প্রস্তুত হচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ইদলিবকে সন্ত্রাসবাদের পকেট আখ্যা দিয়ে বলেন, আমরা জানি, সিরিয়ার সেনাবাহিনী এ সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে প্রস্তুত হচ্ছে। তবে তিনি সে সময় এ অভিযানের কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনি এ সময় দাবি করেন, ইদলিবের বিরোধী পক্ষ সিরিয়ার শান্তিপ্রক্রিয়াকে আটকে রেখেছে এবং সিরিয়ায় থাকা রুশ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে হুমকি দিচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গত সোমবার বলেছেন, ইদলিব থেকে ‘সন্ত্রাসী’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পুরো অধিকার রয়েছে সিরীয় সরকারের। কারণ অনির্দিষ্টকাল ধরে সেখানে এ ধরনের পরিস্থিতি মেনে নেয়া সম্ভব নয়। ল্যাভরভ আরো বলেন, ইদলিব থেকে ‘সন্ত্রাসী’দের অবশ্যই উৎখাত করতে হবে। তারা বেসামরিক মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
১৫ আগস্ট থেকে রুশ বাহিনী ইদলিব ও তার আশপাশে হামলা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সিরিয়ার সরকারপন্থী বাহিনী সেখানে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বোমা ও মর্টার বর্ষণ অব্যাহত রাখে। দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ কথা জানায়। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ গৃহযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কয়েকবারই সিরিয়ার প্রতি ইঞ্চি ভূমি পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেন এবং ২০১৫ সালে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার সাথে রাশিয়া যুক্ত হওয়ার পর বাশার এক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেন।
ইদলিব সমস্যা সমাধানে রাশিয়া, ইরান ও তুরস্ক বর্তমানে একসাথে কাজ করছে। তবে তুরস্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ওই প্রদেশে বড় ধরনের অভিযানে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে। তুরস্কের আশঙ্কা, ইদলিবে অভিযান চালালে সেখানে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হবে। তুরস্কের ওপর শরণার্থীর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। আগামী শুক্রবার ইরানে সিরিয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের নেতৃবৃন্দের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
অভিযান নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
এ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবে অভিযান চালানোর বিষয়ে সিরিয়ার সরকার এবং দেশটির মিত্র রাশিয়া ও ইরানকে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বেপরোয়া অভিযান হবে বড় ধরনের মানবিক ভুল এবং এই অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী কর্তৃক বিদ্রোহীদের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ইদলিবে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেয়ার ঘোষণা আসার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প এক টুইটে এ হুঁশিয়ারি জানান। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি সিরীয় সরকার বা তাদের মিত্ররা রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
তা ছাড়া জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযানের ফলে লাখো মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি এক টুইটে বলেছেন, ইদলিবে বাশার, রাশিয়া ও ইরানের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার সিরিয়াজুড়ে বিদ্রোহীদের দমন করতে পারলেও ইদলিবে এখনো বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির দীর্ঘ দিনের গৃহযুদ্ধের শেষ বড় ধরনের লড়াই হবে এখানেই। ইদলিবে এখনো ১০ হাজার আল-নসুরা ও আল-কায়েদা সদস্য অবস্থান করছে। সিরীয় বাহিনী যেসব এলাকায় জয়লাভ করেছে সেখানকার বিদ্রোহী ও তাদের পরিবার ইদলিবে আশ্রয় নিয়েছে। এখন ইদলিব থেকে তাদের উৎখাত করা হলে সিরিয়ায় যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। ইদলিবে যেকোনো অভিযানে তুরস্কের সাথেও উত্তেজনা বাড়বে। তবে মনে করা হচ্ছে, সিরিয়ায় দীর্ঘ সাত বছরের যুদ্ধ সমাপ্তির পথে। আট বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে জেগে ওঠা আরব বসন্তের ঢেউ সিরিয়াতে প্রভাব ফেলে এক বছর পর। জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুসারে, এরপরের সাত বছরে দেশটি প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে ২৫ লাখ আর বাস্তুচ্যুত হয়েছে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ ভাগ।
সূত্র:রয়টার্স ও আল সাবাহ



