আন্তর্জাতিক

তেহরানের রাস্তায় শোকমিছিলে জনসমুদ্র

ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শোকমিছিলে লাখ লাখ কালো পোশাক পরিহিত মানুষের ঢল নেমেছে। এই বিশাল সমাবেশ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মৃত্যুদণ্ড দাবি এবং খামেনির মৃত্যুর কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার স্লোগান দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। পতাকায় মোড়ানো খামেনি এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় নিহত তার পরিবারের অন্য সদস্যদের কফিনগুলো একটি সুসজ্জিত ট্রাকে করে তেহরানের আজাদি বা স্বাধীনতা স্কয়ারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের হেলিকপ্টার চিত্রে দেখা গেছে, বহু লেনের প্রধান সড়কজুড়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার শুধু মানুষের মাথা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২০২০ সালে রেভ্যুলেশনারি গার্ডসের জেনারেল কাসেম সোলায়মানির জানাজার চেয়েও এবার বেশি মানুষের সমাগম হয়েছে, যেখানে প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

তীব্র গরমের মধ্যে শোকমিছিলে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ ট্রাকটি স্পর্শ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন এবং বরকত লাভের আশায় কফিনের গায়ে ছোঁয়ানোর জন্য নিজেদের স্কার্ফ বা কাপড় ছুড়ে দিতে থাকেন।

অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা এড়াতে লাউডস্পিকারে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে। রেভ্যুলুশনারি গার্ডসের জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানান, কফিনগুলো তেহরানের রাস্তা দিয়ে ১২ ঘণ্টার এক দীর্ঘ যাত্রা শেষে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।

তিনি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা জনসাধারণের কাছে অনুরোধ করছি তারা যেন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আজাদি স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হন। তবে এই বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশটির কর্তৃপক্ষের চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে। তারা আশঙ্কা করছেন, অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ১৯৮৯ সালের মতো কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বা মানুষের পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। উল্লেখ্য, খামেনির পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্যের সময় লাখ লাখ মানুষের ভিড়ে হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে এই শোকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। এদিকে, এই শোকের অনুষ্ঠান ও সমাবেশকে ইরানের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ সচল করা এবং পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে এই দাফন প্রক্রিয়ার কারণে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension