
নিউইয়র্ক সিটি প্রাইমারি: র্যাঙ্কড চয়েস ভোটিংয়ের তৃতীয় রাউন্ডে এন্ড্রু কুমোকে পরাজিত করলেন জোহরান মামদানি

শাহ্ জে. চৌধুরী
নিউইয়র্ক | জুলাই ১, ২০২৫: নিউইয়র্ক সিটি ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির র্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং (Ranked Choice Voting) পদ্ধতির তৃতীয় রাউন্ডে এন্ড্রু কুমোকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান মামদানি। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অফ ইলেকশনস (BOE) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করে।
তৃতীয় রাউন্ডে ভোট পুনর্বণ্টনের পর মামদানি এক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের ভোটের সুবাদে তিনি এগিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত কুমোকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেন।
প্রগ্রেসিভ রাজনীতির বড় বিজয়
জোহরান মামদানি একজন পরিচিত প্রগ্রেসিভ নেতা ও ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট। তিনি হাউজিং জাস্টিস, পাবলিক ট্রানজিট এবং অভিবাসী অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
ভোটে তার জয় তরুণ, বহু-জাতিক ও সচেতন ভোটারদের সংহতির প্রতিফলন, বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিজয়ের পর এক সমাবেশে মামদানি বলেন:
“এই বিজয় শুধুই আমার না—এটি প্রমাণ করে জনগণের সংগঠন, ন্যায়বিচারের পক্ষে রাজনীতি এখনো সম্ভব। আমরা কেবল শুরু করছি।”
কুমোর প্রত্যাবর্তনের চেষ্টায় ছেদ
নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর এন্ড্রু কুমো এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পুনরুত্থানের চেষ্টা করেছিলেন। তবে অভিযোগে জর্জরিত অতীত এবং ‘স্ট্যাবিলিটি’ কেন্দ্রিক প্রচারণা তাকে তরুণ ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেনি।
র্যাঙ্কড চয়েস পদ্ধতির প্রথম রাউন্ডে সামান্য এগিয়ে থাকলেও, ভোট পুনর্বণ্টনের পর তৃতীয় রাউন্ডেই কুমোর পরাজয় নিশ্চিত হয়।
র্যাঙ্কড চয়েস সিস্টেমের গুরুত্ব
এই ফলাফল আবারও প্রমাণ করে যে র্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং শুধুমাত্র প্রথম পছন্দ নয়—দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের গুরুত্ব অনেক বেশি।
মামদানি ছিলেন বহু ভোটারের দ্বিতীয় বা তৃতীয় পছন্দ, যা তাকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে নিয়ে যায়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আগামীর পথ
প্রগ্রেসিভ নেতারা এই জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টির একজন মুখপাত্র বলেন:
“জোহরান মামদানির বিজয় আমাদের বলে দেয়—মানুষ এখন ন্যায়, সাহস ও মানুষের পাশে থাকা নেতৃত্বকেই খুঁজছে।”
এখন তিনি আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ডিস্ট্রিকটি ডেমোক্রেটিক প্রভাবসম্পন্ন হওয়ায় মামদানির জয় প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে।
উপসংহার
এই নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে, নিউইয়র্ক শহরের রাজনীতি বদলাচ্ছে।
পুরনো প্রতিষ্ঠানের মুখগুলোর জায়গা নিচ্ছে নতুন প্রজন্মের, সংগঠিত ও আদর্শনিষ্ঠ নেতৃত্ব।
জোহরান মামদানির এই জয় শুধুমাত্র এক ব্যক্তির বিজয় নয়—এটি এক জনআন্দোলন, একটি নতুন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।



