
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ফেডারেল তহবিল বন্ধের হুমকি

হোসনেআরা চৌধুরী
নিউইয়র্ক
তারিখ: অক্টোবর ১, ২০২৫
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনে নির্দিষ্ট প্রার্থী জয়ী হলে নিউইয়র্ক সিটির জন্য প্রয়োজনীয় ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেবেন।
কার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বক্তব্য?
ট্রাম্প সরাসরি প্রগতিশীল প্রার্থী জোহরান মামদানি-কে লক্ষ্য করে বলেন, তার নীতিগুলো “ভুয়া কমিউনিস্ট প্রতিশ্রুতি।” মামদানি ভাড়া স্থগিত, বিনামূল্যে গণপরিবহন, বিনামূল্যে শিশু যত্ন এবং সিটি-চালিত মুদি দোকান চালুর মতো পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেন:
“তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে এমন সব সমস্যায় পড়বেন, যা নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে কোনো মেয়র আগে কখনো পড়েননি। তিনি আমার কাছ থেকে অর্থ চান, কিন্তু আমি তাকে কিছুই দেব না।”
নিউইয়র্কের বাজেটে ফেডারেল অর্থায়ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
নিউইয়র্ক সিটির ১১৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেটের প্রায় ৮.৩% আসে ফেডারেল তহবিল থেকে—যার পরিমাণ প্রায় ৯.৬ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ মূলত শিক্ষা, সামাজিক সেবা এবং শিশু কল্যাণ খাতে ব্যবহৃত হয়।
তহবিল বন্ধ হয়ে গেলে শহরের আর্থিক কাঠামোতে বড় ধাক্কা লাগবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
• ট্রাম্প এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে সমর্থন জানাননি, তবে তিনি স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো-এর প্রতি ইতিবাচক সুরে কথা বলেছেন।
• বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস পুনর্নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র আকার নিয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো শহরের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করা সাংবিধানিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সমালোচকরা ট্রাম্পের মন্তব্যকে স্থানীয় নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কিছু শীর্ষ নেতা ইতিমধ্যেই এই হুঁশিয়ারির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি শহরের ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার স্পষ্ট প্রচেষ্টা।
উপসংহার
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফেডারেল তহবিল বন্ধ হয়ে গেলে শহরের শিক্ষা, শিশু ও সামাজিক সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা এই হুঁশিয়ারিকে কীভাবে গ্রহণ করেন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শহরের নেতৃত্ব কীভাবে এই সংকট সামাল দেয়।



