
নিউ ইয়র্কে মামদানি সবচেয়ে এগিয়ে, একক লড়াইয়ে চাপে কুমো

শাহ্ জে. চৌধুরী
সাম্প্রতিক জরিপে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মাম্দানির নাম উচ্চারণ হচ্ছে একেবারে শীর্ষে। কুইন্সের এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট তরুণ রাজনীতিক ৪২% ভোট পেয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নিউইয়র্ক পোস্টের জরিপ জানাচ্ছে—বহু প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাম্দানিই এখন নিউইয়র্কবাসীর সবচেয়ে বড় পছন্দ।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কোউমো রয়েছেন ২৬% ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়া পেয়েছেন ১৭%, বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের অবস্থান আশ্চর্যজনকভাবে অনেকটাই নিচে—মাত্র ৯% ভোটে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী জিম ওয়াল্ডেন পেয়েছেন মাত্র ৩% সমর্থন।
কিন্তু জরিপের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো একক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাব্য চিত্র। যদি নির্বাচন কেবল মাম্দানি ও কোউমোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়, তাহলে কোউমো ৫২%-৪১% ব্যবধানে মাম্দানিকে পেছনে ফেলবেন বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে জনমত সমীক্ষা। অন্যদিকে মেয়র অ্যাডামসের বিরুদ্ধে একক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাম্দানি থাকবেন এগিয়ে, তবে খুবই অল্প ব্যবধানে—৪৫%-৪২%।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জরিপকে সরাসরি নিউইয়র্কবাসীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা যাবে না। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের বেশিরভাগই ছিলেন ডেমোক্র্যাট এবং বয়সে প্রবীণ, ফলে তরুণ ও বৈচিত্র্যময় ভোটারের প্রকৃত অবস্থান এখানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। তবে এতটুকু স্পষ্ট—জোহরান মাম্দানি এখন নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে এমন এক শক্তি, যাকে উপেক্ষা করার আর সুযোগ নেই।
শুধু তরুণ নয়, বহু প্রবাসী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকেও তিনি ইতিমধ্যেই আস্থা অর্জন করেছেন। তার প্রচারণায় উঠে আসছে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, সাশ্রয়ী বাসস্থান, জনপরিবহনের উন্নয়ন এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের অধিকারের মতো ইস্যু। এসব বিষয় সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আর প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়েই মাঠে নেমেছেন কোউমো। তার সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ছাড়া শহরের জটিল সংকট সামলানো সম্ভব নয়। এদিকে, অ্যাডামসের জনপ্রিয়তা দিন দিন হ্রাস পাওয়ায় অনেক ভোটার নতুন বিকল্প খুঁজছেন—যার বড় অংশ মাম্দানির দিকে ঝুঁকছে।
সবমিলিয়ে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন ২০২৫ এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। জরিপে মাম্দানির ঝড়ো উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই শহরের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস লেখা হয়তো সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একক লড়াইয়ের সমীকরণ কাকে সামনে নিয়ে আসবে—মাম্দানি না কোউমো—সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা নিউইয়র্ক।



