
গুজবের অগ্নিশিখা ও সত্যের দায়

শাহ্ জে. চৌধুরী
অস্থির সময়ে গুজব আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে, সামাজিক বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সত্য রক্ষা করা শুধু গণমাধ্যমের নয়, নাগরিক সমাজেরও দায়িত্ব।
মানুষের ইতিহাসে তলোয়ারের মতো ধারালো, বন্দুকের মতো ভয়ংকর এক অস্ত্র আছে—তা হলো গুজব। অদৃশ্য অথচ ভয়াল এই শক্তি এক মুহূর্তেই মানুষের মনে ভীতি ছড়িয়ে দেয়, ভেঙে দেয় বিশ্বাস, এবং অনেক সময় প্রাণও কেড়ে নেয়।
সমাজ যখন অস্থির, রাজনীতি যখন অনিশ্চিত, অর্থনীতি যখন টালমাটাল—তখন গুজবই হয়ে ওঠে সবচেয়ে সহজ অস্ত্র। এটি নিজে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে; যেমন আগুন শুকনো খড় পেলে ছড়িয়ে যায়, তেমনি বিভ্রান্তির মধ্যে থাকা মানুষ গুজবকে সহজে বিশ্বাস করে নেয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসও এর ব্যতিক্রম নয়। একসময় ঢলকলমি গাছের পাতা ও পোকার গুজব দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। মানুষ ভয়ে অসংখ্য গাছ কেটে ফেলে, অথচ এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল না। সাম্প্রতিক অতীতে আরও ভয়াবহ উদাহরণ হলো—একজন মা, তাসলিমা রেনু, নিছক গুজবের কারণে জনতার হাতে লাঞ্ছিত হয়ে জীবন হারিয়েছিলেন।
আজকের পৃথিবীতে গুজব আরও শক্তিশালী হয়েছে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। এক ক্লিকেই ভুয়া ছবি, এডিট করা ভিডিও কিংবা কৃত্রিম কণ্ঠস্বর—সবকিছু বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। কখনো কখনো প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমও যাচাই না করেই সেই ভুয়া তথ্যকে সংবাদে পরিণত করে। তখন সত্যের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায় কোলাহলের ভিড়ে।
তাহলে করণীয় কী?
গণমাধ্যমের প্রথম দায়িত্ব হলো সত্যকে রক্ষা করা। কেবল দ্রুত খবর ছাপা নয়, বরং যাচাই করে খবর পরিবেশন করা। পাশাপাশি নাগরিক সমাজকে তৈরি করতে হবে মিডিয়া সাক্ষরতায় সমৃদ্ধ, যাতে মানুষ মিথ্যা ও সত্য আলাদা করতে পারে।
কারণ, গুজব একদিকে যতটা ধ্বংস ডেকে আনে, সত্য ঠিক ততটাই মুক্তির আলো জ্বালায়।



