
নোয়াখালীর গণধর্ষণের ঘটনায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটের রাতে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে হাসান আলী বুলু (৬০) ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা রুহুল আমিনের প্রধান সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আর অন্যজন কলা বিক্রেতা জসিম উদ্দিন (৩০) সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের মোতাহের হোসেনের ছেলে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ জানান, মামলার এজাহারে বুলু ও জসিমের নাম ছিল না। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পায়। তিনি আরও জানান, বুলু হলেন ওই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। ভোটকেন্দ্রে তার সঙ্গেই ওই নারীর ঝামেলা হয়েছিল। পরে সে দশ হাজার টাকায় কয়েকজন ইটভাটা শ্রমিককে ভাড়া করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটান।
জসিমকে আজ ৪ জানুয়ারি শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে চরজব্বার থানা পুলিশের একটি দল। পরে চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় হাসান আলী বুলুকে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিনসহ ৪ জন ইটভাটা শ্রমিক।
মামলার অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান চরজব্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল। ধর্ষণের শিকার ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিন সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
বুধবার ২ জানুয়ারি রাতে জেলা সদরের একটি হাঁস-মুরগীর খামার থেকে রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে রুহুল আমিন গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথাও জানান তারা।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী এখন নোয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে জানিয়ে এরইমধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। ঘটনার বিচার দাবীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ঝড় বইছে। প্রতিবাদ, মানববন্ধন চলছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এরইমধ্যে ভিকটিমের বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর (রোববার) রাতে চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের সোহেল, হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, বেচু, বাসু, আবুল, মোশারেফ ও ছালাউদ্দিন ৪০ বছর বয়সী ৪ সন্তানের জননীর স্বামী ও মেয়েকে ঘরে বেঁধে রেখে বাইরে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করে।


