
পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ভোট শুরু হতেই সহিংসতা, নিহত ৮
শনিবারের সকালে পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ভোট শুরু হলো বোমা, গুলি, বুথ দখল ও ভাঙচুর দিয়ে। গুলি, ছুরিকাঘাত ও বোমা হামলায় ভোট গ্রহণ শুরুর প্রথম চার ঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রবিবার(৮ জুলাই) রাজ্যের ২২টি জেলার ৬৩ হাজার ২২৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসন, ৯ হাজার ৭৩০টি পঞ্চায়েত সমিতির আসন এবং ৯২৮টি জেলা পরিষদের আসনে নির্বাচন শুরু হয়। ভোট শুরুর পর থেকেই ঘটেছে বোমা বৃষ্টি, গুলি চলানো, বুথ দখল, ব্যালট বাক্স বাইরে ফেলে দেয়া, ব্যালট বাক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়াসহ নানা ঘটনা।
বাইরে ভোটদাতারা দাঁড়িয়ে থাকলেও ভিতরে ছাপ ভোট দেয়ায় ভোটপর্ব শেষ। প্রিসাইডিং অফিসাররা বলছেন, কোনাও ব্যালট ছিনতাই হয়েছে আবার কোথাও কারা ভোট দিয়ে চলে গেছে জানেন না তারা। ভোটদাতারা বুথ ঘিরে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দেয়ার দাবি করেন।
কোচবিহারে খাটামারিতে বুথদখল করে ব্যাপক ভাঙচর চলানো হয়েছে।
প্রিসাইডিং অফিসারকে মারধর করা হয়েছে। একটি জায়গায় ব্যালটে পানি ঢেলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে যায় হামলা ও মৃত্যু। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মুর্শিদাবাদে।
শুক্রবার রাত ও শনিবার সকাল মিলিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সকলেই তৃণমূল কর্মী।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়া শুরু হতেই যে রানিনগরে গোলমাল ও সহিংসতা শুরু হয়েছিল, সেখানে ভোটের দিন সকালেও ব্যাপক তাণ্ডব হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে ব্যাপক বোমাবাজি এবং মোহনপুরে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে কিছু ব্যক্তিকে। অভিযোগে উঠছে তৃণমূলের দিকে।
কোচবাহিরে খুন হয়েছেন বিজেপি-র পোলিং এজেন্ট। দিনহাটায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থী। সামসেরগঞ্জে ও ইসলামপুরে বোমায় দুইজন আহত হয়েছেন, নিমতিতায় ব্যালট লুট হয়েছে, দিনহাটায় বুথ তছনছ, করা হয়েছে, রামপুরহাটে বুথে তাণ্ডব,চালানো হয়েছে, বীরভূমে ব্যাপক ছাপ ভোট দেয়ার অভিয়োগ উঠেছে। বিভিন্ন জায়গায় বোমাবাজির পর রাস্তায় রক্ত পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ডায়মন্ডহারবারের ন্যাতড়ায় বুথে ঢুকে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। মালদহে খুন হয়েছেন তৃণমূল কর্মী। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে সিপিএম কর্মীর মৃত্যু। পঞ্চায়েত ভোটপর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হলো।
মনোনয়নপর্বে ভয়ংকর সহিংসতা দেখেছিল ভাঙর। কলকাতা থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরের এই জায়গায় সকাল থেকেই সহিংসতা হয়েছে। চকমরিচা গ্রামে বুথে যাওয়ার রাস্তায় শুধু বোমার চিহ্ন। রাস্তার দুইপাশে ছড়িয়ে আছে বোমার টুকরো। কিছুটা দূরে রাস্তায় চাপ চাপ রক্ত। অভিযোগ, আইএসএফ কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা মারা হয়েছিল। দুই জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভাঙরে একটি বুথের বাইরে দেখা গেল, আইএসএফের বুথ কর্মী মশিদুল মোল্লা ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। তার অভিযোগ, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাকে মেরেছে। তিনি বুথ থেকে বেরিয়ে এসেছেন। ভাঙরের হাতিশালায় তো আইএসএফের নারী প্রার্থী হাজিরা বিবির বাড়িতে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। টিভিতে সেই ছবি দেখার পর পুলিশ বেলা দশটা নাগাদ সেখানে যায়।
সূত্র : ডয়চে ভেলে,টাইমস অব ইন্ডিয়া



