
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রাজি জেলেনস্কি, ক্রেমলিনের না
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে ক্রেমলিন এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি তাঁর এই সম্মতির কথা জানান। কিন্তু নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, মায়ামিতে দুই নেতার বৈঠক হওয়া অসম্ভব।
পেশকভ বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না আমরা আদৌ মায়ামিতে যাব কি না।’ বিকল্প কোনো স্থানে বৈঠকের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মস্কোর আগের দেওয়া শর্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘যদি তিনি (জেলেনস্কি) সত্যিই পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে চান, তবে তিনি মস্কোয় আসতে পারেন। মস্কোতেই তাঁর সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি রয়েছে।’
গতকাল শুক্রবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ডিসেম্বরে মায়ামিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতাকেই আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি অবশ্যই যোগ দেবেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমাদের মুখোমুখি বসে কথা বলতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ কথার চেয়ে ফলাফলের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাঁকে কী বলব কিংবা তিনি আমাকে কী বলতে চান, সেটা বড় কথা নয়। দিন শেষে চূড়ান্ত ফলাফলটাই সবচেয়ে জরুরি।’
কানাডায় দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এখন যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। এটি আলোচনার জন্য তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। তবে আকাশে রুশ আক্রমণ ঠেকানোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকট উল্লেখ করে তিনি স্বীকার করেন, প্রতি মাসে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করাই এখন কিয়েভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সাম্প্রতিক সফরকে একটি ‘ইতিবাচক বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলটি মস্কো সফরের পাশাপাশি যে কিয়েভেও এসেছিলেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



