প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন

জাকির হোসেন

 

দেশে বইছে ভোটের হাওয়া। ঋতুচক্রের আবর্তনে শীত যতই এগিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ৩০ অক্টোবরের পর যে কোনদিন ঘোষণা করা হবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। এর আগে স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আরও ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসনে জিতে সরকার গঠন করে। অন্য আসনগুলোর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৫টি আসনে বিজয়ী হন।

১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে বিএনপি ২০৭টি আসন পায়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, আওয়ামী লীগ (মিজান) ২টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ৮টি, মুসলিম লীগ ও ডেমোক্র্যাটিক লীগ ২০টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফ্ফর) ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ২টি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট ২টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল ১টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ১টি, জাতীয় একতা পার্টি ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে বিজয়ী হন।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসনে বিজয়ী হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগ ৭৬টি, জামায়াতে ইসলামী ১০টি, সিপিবি ৫টি, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) ২টি, ন্যাপ ৫টি, বাকশাল ৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ (রব) ৪টি, জাসদ (সিরাজ) ৩টি, মুসলিম লীগ ৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩২টি আসন পান।

বিরোধী দলের বর্জনের মধ্যে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসনে বিজয়ী হয়। বাকি আসনগুলোর মধ্যে আ স ম আব্দুর রব নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত বিরোধী দল ১৯টি, জাসদ (সিরাজ) ৩টি, ফ্রিডম পার্টি ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৫টি আসনে বিজয়ী হন।

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসনে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, জামায়াত ১৮টি, সিপিবি ৫টি, বাকশাল ৫টি, জাসদ (সিরাজ) ১টি, ইসলামী ঐক্যজোট ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি, এনডিপি ১টি, গণতন্ত্রী পার্টি ১টি, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) ১টি ও অন্যান্য দল ৩টি আসন পায়।

তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের অংশগ্রহণ ছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি জিতে ২৭৮ আসনে জয়লাভ করে। এ নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১০টি আসনে বিজয়ী হন। এছাড়া গোলযোগের কারণে বাকি আসনে ভোট স্থগিত হয়ে যায়। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনেই সর্বাধিক সংখ্যক (৪৯ জন) প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে বিজয়ী হয়। বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াত ৩টি, ইসলামী ঐক্যজোট ১টি, জাসদ ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি আসন পান।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর। এই নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে বিজয়ী হয়। আর আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াত ১৪টি, জাতীয় পার্টি ১৪টি, বিজেপি ৪টি, জেপি (মঞ্জু) ১টি, ইসলামী ঐক্যজোট ২টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬টি আসনে বিজয়ী হন।

অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষে দেশে ২ বছর জরুরি অবস্থা থাকার পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসনে জয়লাভের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এ নির্বাচনে বিএনপি ২৯টি, জাপা ২৭টি, জাসদ ৩টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ২টি, জামায়াত ২টি, এলডিপি ১টি, বিজেপি ১টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৪টি আসনে জয়ী হন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন সংসদের তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপিসহ কয়েকটি দল বর্জন করে। ফলে ১৫৪টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ভোটগ্রহণ হয় মাত্র ১৪৬টি আসনে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২৩২টি আসনে জয়লাভ করে। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি পেয়েছে ৩৩টি আসন। এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছে ২০টি আসনে। ওয়ার্কার্স পার্টি পেয়েছে ৬টি আসন, এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ২টি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) পেয়েছে ৫টি আসন, এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ২টি। এছাড়া, জেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১টি। নির্বাচনে বিএনএফ পেয়েছে একটি আসন। নির্বাচনে তরিকত ফেডারেশন ১টি। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ১৩ জন। দশম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। নবম জাতীয় সংসদের সর্বদলীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেয়েছিল। সেই নির্বাচন হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension