বাংলাদেশ

বাংলাদেশ জুলহাজ-তনয় হত্যার রায়: আদালতে দণ্ডিত জঙ্গিদের আস্ফালন

বিডি নিউজ: সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছয় আসামির মধ্যে যে চারজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।

বরং রায় শোনার পর দেখা গেছে তাদের আস্ফালন। রায়ের আগে পুলিশ হেলমেট, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিহিত আসামিদের কাঠগড়ায় হাতকড়া পড়াতে গেলে পুলিশের সঙ্গেও তারা রাগ দেখায়।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান মঙ্গলবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, শেখ আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ।

তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হযেছে। পাশাপাশি আরেকটি ধারায় ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তাদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক। বাকি চারজনের উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন।

আর অভিযোগে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় পলাতক আসামি সাব্বিরুল হক চৌধুরী এবং জুনাইদ আহমদ ওরফে মওলানা জুনায়েদ আহম্মেদ ওরফে জুনায়েদকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

রায়ে বলা হয়, দণ্ডিত ছয় আসামির সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আর ইসলামের সদস্য হিসাবে জুলহাজ ও তনয়কে হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
“সেজন্য ৬ আসামিকে একই সাজা দেয়া বাঞ্ছনীয় হবে। আসামিরা বেঁচে থাকলে আনসার আল ইসলামের বিচারের বাইরে থাকো সদস্যরা একই অপরাধ করতে উৎসাহী হবে। কাজেই উক্ত আসামিরা কোনো সহানুভূতি পেতে পারে না।”

রায় শুনে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো জঙ্গি আরাফাত বলেন, “এই তাগুতি বিচার ব্যবস্থা আমাদের পায়ের নিচে।”

আরেক আসামি আসাদুল্লাহ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ । এই রায়ে আমরা সফল। আমরা আখেরাতে সফল হব।”

রায় ঘোষণার আগে উপস্থিত চার আসামিকে পুলিশ কাঠগড়ায় তুলে হাতকড়া পরাতে গেলে তারা বলতে থাকেন, ‘তাগুতি আইনেও’ তো এই বধান নাই। জঙ্গিদের কী মানবাধিকার নাই? বাক স্বাধীনতা নাই?

দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাড়িতে প্রবেশ করে ইউএসএইড কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু থিয়েটারকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১২ মে জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম। এরপর গত বছরের ১৯ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। নয় মাসের মাথায় বিচার শেষে রায় ঘোষণা হল।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension